
ষ্টাফ রিপোর্টার:
বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাৎ মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, দুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালী ও যত বড়ই হোক না কেন আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে।
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলে যাব। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা থেকে দুর্নীতি নির্মূল করাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের লড়াইটা দুর্নীতির বিরুদ্ধে।
শুনানি শেষে কোনো ধরনের ব্যর্থতা ছাড়াই ৩ মাসের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারিসংক্রান্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
এতে ব্যর্থ হলে কমিশনের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত। রায়ে বলা হয়, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে আদালতে হলফনামাও দিতে হবে।
বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা পৃথক তিন মামলায় এক আসামির জামিন প্রশ্নে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা পৃথক মামলায় নিম্ন আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন শান্তিনগর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট জামিন প্রশ্ন রুল দেন। কেন মোহাম্মদ আলীকে জামিন দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।
পৃথক রুলের ওপর একসঙ্গে শুনানি শেষে মঙ্গলবার রায় দেওয়া হয়। আদালতে মোহাম্মদ আলীর পক্ষে আইনজীবী এসএম আবুল হোসেন ও দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন, সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম।
শুনানিকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খানের উদ্দেশে আদালত বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমরা কারও বিরুদ্ধে কথা বলি না। কেউ আমাদের শত্রু নয়। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমরা কথা বলি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলাই আমাদের উদ্দেশ্য। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তিন মামলায় মোহাম্মদ আলীকে জামিন দেননি। তিন মামলায় তার জামিন প্রশ্নে রুল খারিজ (ডিসচার্জ) করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বেসিক ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৫ সালের ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর ৫৬টি মামলা করে দুদক, যেখানে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।
এর মধ্যে মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে, যার বিপরীতে ৪২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা তছরুপের অভিযোগ।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.