
নিউজ ডেস্ক:
তীব্র ডলার সংকট মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে পণ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে টাকায় লোকাল বা স্থানীয় এলসি খোলার সুযোগ চায় বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)।
একই সঙ্গে তারা স্থানীয় এলসির দেনা ডলারের বিপরীতে টাকায় পরিশোধ করার সুযোগ চায়। এতে ডলারের ওপর চাপ কমবে।
এদিকে এর তীব্র বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। তারা বলেছে, বিটিএমএর সদস্য মিলগুলো ডলার দিয়ে বিদেশ থেকে তুলা আমদানি করে।
তুলা থেকে সুতা তৈরি করে সেগুলো যদি টাকায় বিক্রি করা হয় তাহলে তুলা আমদানির ডলার কোথা থেকে মিলবে। এতে বৈষম্য তৈরি হবে। এতে সংকট কমার পরিবর্তে আরও বাড়বে।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিটিএমএ ও বিকেএমইএ’র প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারা এসব কথা বলেছেন। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সিন্ধান্ত দেওয়া হয়নি। তারা বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করে দেখবেন বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, মে থেকে দেশে ডলার সংকট চলছে। জুলাই থেকে এ সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় বিলাসী ও অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। কিন্তু শিল্পের উপকরণসহ রপ্তানি শিল্পের কাঁচামাল ও খাদ্য পণ্য আমদানিতে ডলারের জোগান স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন ডলার সংকটের কারণে রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে রপ্তানি শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে গত মাসের শেষদিকে বিকেএমইএ স্থানীয় কোম্পানি থেকে সুতা বা কাপড় কেনার ক্ষেত্রে স্থানীয় বা লোকাল এলসি ডলারের পরিবর্তে টাকায় খোলার সুযোগ চায়। একই সঙ্গে ডলারের খোলা এলসির মধ্যে যেগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে সেগুলোর দায় টাকায় পরিশোধ করার সুযোগ চায়। এ বিষয়ে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। এতে তারা সাময়িকভাবে এই সুযোগ চেয়েছে। তাদের মতে, এতে ডলারের সংকট কিছুটা হলেও কমবে।
এ বিষয়টি নিয়ে বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বিটিএমএ ও বিকেএমইএ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।
বৈঠকে বিকেএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়, বৈশ্বিক মন্দার কারণে তারা রপ্তানি করেও সময়মতো ডলার পাচ্ছেন না। ডলার পেতে দেরি হচ্ছে। ফলে ডলারে স্থানীয় মিল থেকে সুতা কেনার এলসি খুলতে পারছেন না। ফলে রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া সুতার দাম বাড়ায় এখন রপ্তানি থেকে পাওয়া ডলার ব্যয় করেও এলসি খোলা যাচ্ছে না। আরও ধার নিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় এলসি টাকায় খোলা ও টাকায় এলসির দায় নিষ্পত্তির সুযোগ দিলে ডলারের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। তারা দ্রুত এলসি খুলে সুতা কিনতে পারবেন।
বৈঠকে বিকেএমইএর এ বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে বিটিএমএ। তারা বলেছেন, বিটিএমএর সদস্য মিলগুলো ডলার দিয়ে বিদেশে থেকে তুলা আমদানি করে। তুলা থেকে সুতা তৈরি করে সেগুলো স্থানীয় নিটওয়্যার কোম্পানিগুলোর কাছে ডলারে বিক্রি করে। সেই ডলার দিয়ে তারা আবার তুলা আমদানির এলসি খোলে। এখন যদি টাকায় সুতা বিক্রি করা হয় তাহলে তুলা আমদানির ডলার কোথা থেকে পাবে তারা। এই ডলার ব্যাংক থেকে কিনতে গেলে বেশি দাম দিতে হবে। এছাড়া বেশি দাম দিয়েও ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বৈষম্য তৈরি হবে। এতে সংকট কমার পরিবর্তে আরও বাড়বে। তখন তুলা আমদানি করা যাবে না। ফলে বস্ত্র মিলগুলো পথে বসবে।
বৈঠক শেষে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সংবাদিকদের বলেন, ডলার সংকটের কবলে পড়ে ব্যবসায়ীরা এখন কঠিন সময় পার করছে। পণ্য রপ্তানি করা হলেও অনেক সময় ডলার সময়মতো আসছে না। ক্রেতা দেরি করে ডলার দিচ্ছে। এতে রপ্তানিকারকরা নতুন করে কাঁচামাল আমদানির এলসি খুলতে পারছে না। এ কারণে বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে টাকায় এলসির দায় পরিশোধ ও নতুন এলসি ডলারের পরিবর্তে টাকায় খোলার সুযোগ চাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হচ্ছে জানুয়ারির দিকে ডলার সংকট কেটে যাবে। কিন্তু মনে হচ্ছে না যে, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডলার সংকট কেটে যাবে। এমন কোনো সম্ভাবনাও দেখছি না।
বিটিএমএ প্রতিনিধি বাদশা মিয়া সংবাদিকদের বলেন, পোশাক মালিকরা রপ্তানি করে ডলার পান। সেই ডলার দিয়ে তারা বস্ত্র মিল থেকে সুতা কেনেন। সুতা বিক্রির ডলার দিয়ে বস্ত্র মিলগুলো তুলা আমদানি করে। সেই তুলা দিয়ে সুতা তৈরি করে পোশাক মালিকদের কাছে বিক্রি করা হয়। এখন বস্ত্র মিলগুলো যদি টাকায় সুতা বিক্রি করে, তাহলে তারা তুলা আমদানি করবে কি দিয়ে। টাকা দিয়ে তো তুলা আমদানি করা যাবে না, ডলার দিয়ে আমদানি করতে হবে। ফলে এ ধরনের প্রস্তাব একেবারেই বাস্তবায়নযোগ্য নয়।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.