ওমর ফারুক
স্টাফ রিপোর্টার
বগুড়ার শাজাহানপুরে কৃষি আবাদি শতশত বিঘা জমি নষ্ট করে প্রায় অর্ধ-শতাধিক কীটনাশক কোম্পানী গড়ে উঠছে। হরেক রকমের কোম্পানী বাহারি নামের। বিধি-নিষেধ ছাড়াই কৃষি আবাদি জমির উপর গড়ে উঠেছে নতুন নতুন স্থাপনা। দিনদিন কৃষিজমি ভরাট করে নির্মাণ করা হচ্ছে কোম্পানীর স্থাপনা গুলো।
উপজেলার ১নং আশেকপুর ইউনিয়ন এর আশেকপুর, চকজোড়া, পারতেখুর মৌজার রাজশাহী-বগুড়া মহাসড়কের রানীহাট এলাকায় কৃষিজমিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে কীটনাশক কোম্পানী আর কমছে কৃষি আবাদি জমি। প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই জমির শ্রেণী পরিবর্তন না করে প্রতিযোগিতা হিসেবে গড়ে উঠেছে কোম্পানী গুলো। এ যেন আগ্রাসনে পরিনত করছে। আবাদি জমি চলে যাচ্ছে অকৃষিখাতে এবং অনাবাদিতে পরিনত করছে। কমছে আবাদি জমির পরিমান আর প্রাণ হারাচ্ছে কৃষক। কোন কিছুতেই থামছেনা কোম্পানী গুলোর অধিপত্য গড়তে কৌশলে কৃষকের প্রান কেড়ে নিয়ে গড়ছে কীটনাশক কোম্পানী। প্রশাসনের নেই কোন ধরনের তারা বালাই দেখেই দেখছেনা।
কৃষিসুত্রে জানোগেছে, ২০০৪ইং থেকে ২০২২ইং সাল পর্যন্ত আবাদি জমি হ্রাস পেয়েছে প্রায় ২শত হেক্টর। আবাদি জমির পরিমান ছিল ১৬হাজার ২শত হেক্টর। এখন সেখানে কমিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬হাজার হেক্টর।
সরজমিনে দেখাগেছে, কিছু সংখ্যক নারী শ্রমিক দিয়ে বিভিন্ন জাতের প্লাস্টিকের মোড়কে সাদা পাউডার জাতীয় ক্যামিকেল মিশ্রিত দ্রব্য প্যাকেট জাতকরণ করছেন। এতে করে আবার অনেক শ্রমিক শ্বাস কস্টোজনিত রোগে ভুগছেন। আবার অনেকেই চোখের পানি ঝরা রোগে ভুগছেন। একজন নারী শ্রমিক জানায়। বিশেষ করে যেদিন আগাছা দমনের ওষুধ তৈরির কাজ চলে সেদিন পুরা শরীর অগ্নী দগ্ধ হলে যেমন জ্বালা-পোড়া করে তেমন শরীরের মাঝে হয়।
পারতেখুর গ্রামের কৃষক আফতাব আলীসহ অন্য কয়েক জন কৃষক জানায়, আমাদের ফসলের মাঠ দিনদিন সংকুচিত হয়ে আসছে। প্রায় ১বছরের ব্যবধানে পাঁতারের মাঝে একে পরে এক কোম্পানী গড়ছে অসাধু কীটনাশক ব্যবসায়ী মালিকপক্ষ। বেশি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ৩ফসলি কিনেছে যে জমিতে বোরো ধান, আলু ও রোপা আমন ধানের চাষাাবাদ ওই এলাকায় বেশি ফলন ও হয়। এলাকার কৃষাণদের রুটি রুজির পথ ওই সমস্থ জমি থেকেই আসতো। এভাবে যদি চলতে থাকে আমরা এবং আমাদের প্রজন্ম কিভাবে বাঁচবে জমি গুলি হারিয়ে।
এবিষয়ে নতুন নির্মাণাধিন কোম্পানীর মালিক ইউসুফ পাঠান জানান, আমাদের কৃষি অফিসের অনুমতি আছে, ইউনিয়ন পরিষদসহ বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। টেনস্ এ্যাগ্রো লি: এর পরিচালক মেহেদী পাঠান বলেন, আমরা কৃষির সহায়ক হিসেবে কাজ করছি। যেখানে আগে সময় জমিতে বিঘা প্রতি ১০/১২ মন হারে ধান উৎপাদন হতো এখন সঠিক কীটনাশক প্রয়োগের কারণে তার চেয়ে দ্বি-গুন ফসল ফলছে। আমরা কৃষির ফসলের কোন ক্ষতি করছিনা বরং উপকার করছি।
পপুলাার এ্যাগ্রো লি: কোম্পানীর মালিক দ্বিলীপ বাবু জানান, আমার প্রতিষ্ঠান সরকারী বিধি মোতাবেক ঢাকা খামারবাড়ি থেকে লাইসেন্স প্রাপ্তসহ সকল ধরনের নথিপত্র সঠিক এবং বিধান মত রয়েছে।
এবিষয়ে বগুড়াজেলা পরিবেশ অধিদপ্তর এর পরিচালক মিকাইল হোসেন জানান, আমরা অনেক কিছুই জানিনা তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, বাংলাদেশ এর উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সকল কিছুরই চাপ ভুমিতে এসে পড়ছে দিনদিন কল-কারখানা, রাস্তাঘাট, জনবহুল দেশ হিসেবে বাড়ছে মানুষ তৈরি হচ্ছে নিত্যনতুন বাড়িঘর নির্মাণ, আবার অনেকেই পুকুর কাটছে। তাহাছাড়া আবাদি জমি নষ্ট করে কোন শিল্পকারখানা নয় এবং এক টুকরো জমি ফেলে না রাখতে বর্তমান সরকারের নির্দেশ।
শাজাহানপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) সানজিদা মোস্তাতারী জানায়, ভুমি আইনে অবৈধ্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোন ভাবেই কৃষিজমি নষ্ট করা যাবেনা।

