স্টাফ রিপোর্টার:
পেঁয়াজের মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণী। এবছর শ্রমিকের মজুরি বেশি, কীটনাশকসহ সব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় পেঁয়াজ আবাদে খরচ হয়েছে প্রায় দ্বিগুন। কিছুটা ক্ষতি হয়েছে ঘুর্নিঝড় চিত্রাং এর কারনে। যে কারনে লোকসানের আশঙ্কা করছেন রাজবাড়ী জেলার কৃষকরা। আবার কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ ও করেন কেউ কেউ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত বছর ৩৪ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হলেও এ বছর জেলায় ৩৫ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে এবছর ৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ করা হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়নের হরিহরপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন এ বছর চার বিঘা জমিতে পেঁয়াজর আবাদ করেছেন । শ্রমিক, বীজ, ও সারসহ বিঘা প্রতি তার খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করায়, কমেছে পেঁয়াজের দাম, এর উপর যদি পেঁয়াজ আমদানি করে সরকার তাহলে লোকসানে পরবেন বলে জানান তিনি।
হরিনবাড়িয়া এলাকার কৃষক আলমাস ফকির বলেন, পেঁয়াজ চাষে এ বছর মারাত্বক দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলা শুরু হয়েছে এখন বাজারে ২০ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে। এ জন্যে এ এলাকার প্রায় কৃষকের কপালে দুঃশ্চিন্তার ভাজ। এভাবে বাজার থাকলে আগামীতে আর কেউ পেঁয়াজের আবাদ করবে না। পেঁয়াজ বাদ দিয়ে অন্য ফসল আবাদে ঝুকবেন তারা।
কৃষক রুপন প্রামানিক বলেন, রাজবাড়ীতে প্রচুর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়। এ বছরও মাঠের পর মাঠ পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। ৫০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারলে লাভবান হবেন কৃষক। এর কমে বাজারে বিক্রি হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতিটি কৃষককে। আবার কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে না যাওয়া ও প্রনোদনার সঠিক বন্টন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান বলেন, পুরো খানগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষি পন্যের সমাহার হয়। হরিহরপুর মাঠ থেকে কৃষক যাহাতে সহজে উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারে সেজন্য হরিনবাড়িয়া খালের উপর চারটি কালভার্টের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়া ওই সড়কটিও মেরামতের কাজ চলমান আছে।
রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম শহিদ নুর আকবর বলেন, পেঁয়াজের উন্নতমানের জাত নিয়ে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এ বছর ৬৭৫ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে সার বীজ প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়াও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সব সময় কৃষকদের খোঁজ খবর রাখছেন, ফসলের রোগ জীবানু সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

