ওমর ফারুক
স্টাফ রিপোর্টারঃ
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচিতে উপকারভোগীর তালিকা তৈরিতে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ এনে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমারকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর দুইটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড সদস্যসহ ৭৮ জন জনপ্রতিনিধি ওই কর্মকর্তাকে নিজ অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চিত্তরঞ্জন রায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।
জানা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের ৫৪টি ওয়ার্ডে ২০২৩ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত দুস্থ ভিজিডি কার্যক্রমের আওতায় ২৬৫৯ জন দুস্থ নারী সুবিধা পাবে।
এ বিষয়ে আঙ্গারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা আহমেদ শাহ্ বলেন, আমাদেরকে প্রথম মিটিং এ বলা হয়েছিল একটা তালিকা হয়ে গেছে। পরিপেক্ষিতে এই তালিকা কোথা থেকে আসল, তা জানতে চাইলে তারা বলেন মন্ত্রণালয় থেকে এসেছে। এটা নিয়ে আমরা বিভিন্ন উপজেলার কথা বলেছি কোথাও অটামেশন তালিকার খবর পাওয়া যায়নি। সবখানে উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ সমন্বয় করে করা হয়েছে। এই অটোমেশন তালিকা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের বসার কথা থাকলেও তারা এখনো বসেনি।আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের কমিটির অনুমোদনের তালিকা নিয়ে আমরা উপজেলা প্রশাসনকে জমা প্রদান করার আগেই আমাদের বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের নিয়ে পরিপত্র উপেক্ষা করে অনুমদন দেয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি ওনার সঙ্গে পরিপত্রের বাহিরে কোনো কথা বলিনি। এ রকম কেনো করলেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সমন্বয় করে করেছি। কিন্তু আমাদের সঙ্গে কোন সমন্বয় করেননি। উানারা অটোমেশনকে সাপোর্ট করেছেন ।এ ছাড়াও সঠিক জবাব দিতে পারেনি তিনি। উনি একটি কথা বারবার বলেছেন উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে এ কাজ করেছি। আমাদের অবমাননা করা হয়েছে, আমাদেরকে বাদ দিয়ে অটোমেশনে সচিবদের স্বাক্ষর নেওয়াতে আগামী উপজেলা মাসিক সভা আমরা চেয়ারম্যানরা বর্জন করলাম।
ভাবকী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আলম তুহিন বলেন, আমরা চেয়ারম্যানগন এবং মেম্বারগনের স্বস্ব ওয়ার্ডে কমিটি আছে। সেই কমিটি থেকে ইউনিয়ন পরিষদের কমিটি এসেছে সেই তালিকা যাচাই বাচাই করে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে প্রেরন করেছি বিগত দিনে। আমাদের তালিকা প্রেরন না করে, আমাদের চেয়াম্যানগনদের বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের জোর করে সেঅটোমেশন তালিকায় সাক্ষর করিয়েছে। এই অটোমেশন তালিকা বাংলাদেশের কোথাও নাই। অটোমেশন তালিকায় বিভিন্ন সুবিধাভোগীর নাম রয়েছে এ ছারাও এই তালিকায় আনসার-ভিডিবি সদস্যদের নাম নেই, বিভিন্ন কমিনিউটি ক্লিনিকের আয়াদের নাম নেই, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জেমদের নাম নেই। আমরা যে, তালিকা দিয়েছি এবং অটোমেশন তালিকা পর্যবেক্ষণ করে। যারা দুস্থদের তালিকা করে প্রেরণ করি। কিন্তু আমাদের তালিকা বাদ দিয়ে তাদের মন মত তালিকা তৈরি করে। এবং আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের জোর করে সাক্ষর নেওয়ার পরিপেক্ষিতে অফিসে অবস্থান করি। আমরা দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করার পর বুঝতে পেরেছে ইউনিয়ন পরিষদ বাদ দিয়ে এই তালিকা করতে পারবে না। আমাদের অবস্থানের কারণে ওসি সাহেবকে খবর দেয় এবং ওসি সাহেব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত করেন আগামী রবিবার এ বিষয়ের বসে সমাধান করা হবে। এই পরিস্থিতি নিরসনের কথা বলায় আমরা আজকের কর্মসূচি মুলতবি করলাম। আমাদের তালিকা চূড়ান্ত না হলে আমরা পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করব।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এনে খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চিত্তরঞ্জন রায় বলেন, আমি উভয় পক্ষের কথা শুনেছি। যে তালিকা হয়েছে সেটা সঠিক হয়নি মর্মে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করা হবে।
এ বিষয়ে ভিডব্লিউবি কমিটির সদস্য সচিব ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমারের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে তিনি স্বীকার করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের চাপে এই তালিকা অনুমোদন দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভিডব্লিউবি কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশিদা আক্তার বলেন, চেয়ারম্যানরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে উপকারভোগীদের তথ্য হালনাগাদ করেননি। ফলে পরবর্তী সময়ে উপজেলা প্রশাসন নামের তালিকা আংশিক হালনাগাদ করে অধিদপ্তরে পাঠিয়েছে। বিষয়টি চেয়ারম্যানরা মানতে চান না। ১৪ জানুয়ারি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
ছবির ক্যাপশন: মঙ্গলবার দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা।

