সম্পাদক
স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বেড়েছে কুয়াশা ও শীতের দাপট। তীব্র শীতের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মত কুয়াশায় পরছে। উপজেলার জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের তীব্রতায় খেটে খাওয়া মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছে। জেলায় শীতের তীব্রতা হঠ্যাৎ করেই বেড়ে যাওয়ায় শীতের সাথে সাথে ঘন কুয়াশা পড়ছে। সকালে সড়কে যানবাহনকে লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
উপজেলায় হিমেল হাওয়া ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে শীতার্ত মানুষের ভিড় বেড়েছে। শীতজনিত কারণে শিশুসহ নানা বয়সী মানুষের মধ্যে আমাশয় ও নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সকালে লোকজন ঘরের বাইরেও যেতে ভয় পাচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও দরিদ্র মানুষজন এ শীতে পড়েছে চরম বিপাকে। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের দিনমজুররা মানবেতর জীবন যাপন করছে। রবিবার (১৫ জানুয়ারি) জেলায় আজ সকাল ৬ টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ ভোর থেকে বেলা কুয়াশায় চাদরে ঢাকা পড়েছে ফরিদপুর জেলার মানুষ । বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের দেখা মিললেও তীব্রতা বা প্রখরতা তেমন দেখা যায় না। সকালে রাস্তায় যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। দেখা দিয়েছে কাজের সংকট। ঘন কুয়াশায়র মধ্যেই জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে বের হচ্ছেন সাধারণ শ্রমিকরা। আর গরম কাপড়ের অভাবে কাজে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে তাদের। সড়ক পথেও দ্রুত গতি সম্পন্ন যানবাহন চলাচলে ভীষণ বিড়ম্বনা দেখা দিয়েছে।
এ কারণে ভোর সকাল থেকে ঘন কুয়াশায় কারণে দিনের অনেকটা সময় যানবাহন ধীরে ধীরে চলাচল করতে দেখা যায়। এতে করে সড়কের অনেক স্থানে যানজটের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তবে বেলা গড়িয়ে দুপুর হতেই সূর্যের আলো তীব্র হতেই কুয়শা কাটতে শুরু করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে দরিদ্র অসহায় শ্রেণির মানুষেরা। এসব মানুষদের পড়নের পাতলা কাপড় থাকেনা সেসব ব্যক্তিরা শীতবস্ত্র কি করে জোগাড় করবে। এতে করে এসব ব্যক্তিদের শীত মৌসুমে হয়তো কোন হৃদয়বান ব্যক্তির সরনাপন্ন হতে হয়, নয়তো শীতের দুর্ভোগ সহ্য করে কোন রকমে দিন কাটাতে হয়। ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ তেমন একটা নেই। তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। তবে রাত থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে চারদিকে।
ঢাকাগামী এক বাস চালক বলেন, ঘন কুয়াশায় ১০-১৫ ফুট দূরের কিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। তাই হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরে বাস চালাতে হচ্ছে। এক ট্রাকচালক বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা শুরু হয়েছে। এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে তিন ঘণ্টায়।

