ওমর ফারুক

স্টাফ রিপোর্টারঃ

গত ১৮ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আন্তঃউপজেলার কুখ্যাত শাহীন ডাকাত ও তার একজন সহযোগীকে বান্দরবান জেলার সদর থানাধীন মেঘলা এলাকা হতে র‌্যাব-১৫ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক রাত ০৯.০০ ঘটিকায় শাহীনুর রহমান @ শাহীন ডাকাত (৩৫) এবং তার অন্যতম সহযোগী মোঃ তারেক জিয়া (২১)’কে গ্রেফতার করে।

ইতিপূর্বেও শাহীন ডাকাত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিল। তাকে গ্রেফতারের দাবিতে এলাকার সচেতন মহল সম্প্রতি একটি মানববন্ধন করেছিল। তার অপকর্মের ভয়ে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির ০৬ ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ জিম্মি হয়েছিল। তার অপকর্মের বিষয়গুলি বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি দায়েরকৃত একটি নিয়মিত মামলা ও গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতারের নিমিত্তে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করি। গ্রেফতার এড়ানোর লক্ষ্যে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। অতঃপর গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে তাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী শাহীনুর রহমান আন্তঃউপজেলার একজন শীর্ষ ডাকাত। ডাকাতি, মাদক, গরু চোরাকারবারীদের সহযোগীতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত এই শাহীন ডাকাত। সে প্রায়শই রাতের বেলায় রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দলবলসহ সশস্ত্র মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো। গত ১২ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে গর্জনিয়ার একজন ইউপি সদস্য (মনিরুল আলম) তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় শাহিন ডাকাত গ্যাং তাকে মারাত্নকভাবে পিটিয়ে দুই পা ভেঙ্গে দেয়। গত কয়েকদিন ধরে এই চক্রটির ডাকাতি ও অপহরণের ভয়ে স্থানীয়রা এলাকায় রাত জেগে পাহারা দিত।

গ্রেফতারকৃত শাহীন ডাকাত এর বিরুদ্ধে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় ০৫ টি ডাকাতি, ০৩ টি অস্ত্র, ০১ টি মাদক, ০৪ টি হত্যা চেষ্টার মামলা রয়েছে এবং সে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী।

গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।