সম্পাদক
স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরে সিডলেস জাতের লেবুর বাগান করে লাখপতি হয়েছেন বোয়ালমারী উপজেলার বর্নীচর গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম । গত চার বছরে তার বাগান থেকে প্রায় ২২ লাখ টাকার লেবু বিক্রি হয়েছে বলে জানান। শহিদুলের সফলতা দেখে এলাকার বেকার যুবকরা লেবুর বাগান করার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন।
কৃষি উদ্যােক্তা শহিদুলের সীড লেবুর বাগান দেখতে ও পরামর্শ নিতে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসছেন। অনেকেই এ বীজহীন লেবুর বাগান করার কথা চিন্তা-ভাবনাও করছেন। অনেকেই ছোট পরিসরে শুরু করেছেন এর চাষ। এটি অল্প পুঁজিতে ভালো একটি চাষাবাদ ও লাভজনক। শহিদুলের এ লেবু চাষের সফলতা দেখে অনেকেই লেবু চাষে আগ্রহ হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে মানুষের কাছে হাইব্রিড জাতের এ বীজহীন লেবুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আরেক সুবিধা হচ্ছে একবার এ লেবুর চারা রোপণ করলে একাধারে ১২ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত এ জাতের লেবু গাছে ফলন দেয়।এই চাষে অল্প পুঁজিতে ব্যাপক পরিসরে চাষ করে লাভ পাওয়া সম্ভব। রোপনের বছর বাদে প্রতিবছর একবার ডালপালা ছাটা, মাটি কোপানো, প্রতি ৩ মাসে একবার নিড়ানি ও ২-৩ মাস অন্তর সেচ ও সামান্য জৈব সার দিতে হয়। ফলে একর প্রতি বার্ষিক খরচ হয় মাত্র ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয় । আর এক একর জমির লেবুতে আয় হয় কমপক্ষে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা। তাছাড়া নিজের উৎপাদিত কলম চারা দিয়ে ফিবছর নতুন বাগান তৈরি করা ছাড়াও প্রতিটি কলম করা চারা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে বিক্রি করতে পারেন।
শহিদুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য ফল চাষে কম-বেশি ঝুঁকি থাকলেও, নতুন জাতের সীডলেস লেবু রয়েছে অনেকটাই সুবিধাজনক রয়েছে। এ কারণে তিনি এ লেবু চাষ করে এ সাফল্য পেয়েছেন। লেবুর পাশাপাশি তিনি লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা, পেপেসহ নানা প্রজাতির মৌসুমি ফল ও সবজি চাষ করছেন। জাত নির্বাচন, চাষাবাদ ও পরিচর্যাসহ সার্বিক ভাবে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিচ্ছেন তিনি। স্থানীয় বাজারে চাহিদা থাকায় ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি তিনি।
তিনি আরও বলেন, মাত্র ১৫০ শতাংশ জমিতে লেবুর চারা, বাগান বেড়া দিয়ে ঘেরা এবং শ্রমিকের মজুরী বাবদ তার মোট খরচ হয়েছে দুই লক্ষ টাকা। ২০১৯ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ওই বাগান থেকে লেবু এবং লেবুর চারা বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম বছর ও দ্বিতীয় বছর ৮লক্ষ লেবু বিক্রি হয়েছে।মোট ৪ বছরে সীডলেস লেবু ও কলম ২২ লক্ষ টাকা বিক্রি হয়েছে। গত করোনাকালে লেবু বেশি বিক্রি হয়েছে।তাছাড়া বোয়ালমারী, মোহাম্মদপুর উপজেলার পাইকাররা এসে তার বাড়ি থেকে কিনে নিয়ে যায়। লেবু বিক্রিতে তার মাসিক আয় হচ্ছে ৫০-৬০ হাজার টাকা। শহিদুলের লেবুর বাগান দেখতে এসে বোয়ালমারীর সুজিত কীর্ত্তনীয় বলেন, ‘বেকার যুবকদের জন্য অল্প পুঁজিতে ভালো একটি প্রকল্প হতে পারে এটি। আমি নিজেও চিন্তাভাবনা করছি লেবু চাষ করার। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, আমি বেশ কয়েক বার শহিদুল ইসলামের বাগান পরিদর্শন করেছি।১২ মাস ফলন দেয়া বীজবিহীন অধিক ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ প্রচুর রস ও সুঘ্রাণ যুক্ত হাইব্রিড জাতের এ সীডলেস লেবুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় বোয়ালমারী লেবু চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। সঠিক ভাবে পরিচর্যা করলে একবার চারা রোপনের পরে একাধারে ১২ বছর থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, এ লেবু চাষে যদি কেউ এগিয়ে আসতে চায় তাহলে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

