সম্পাদক
স্টাফ রিপোর্টার:
ইটনা উপজেলার মোহাম্মদ তোফাজ্জল বাশার শিশির ওরফে শিশির আহম্মেদের বিরুদ্ধে চাকরী দেওয়ার নাম করে জন প্রতি ৩০ হাজার টাকা করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়াছে। এমনি ভাবে সে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতারনা করে আত্বসাত করেছে। ‘ড্রিম হার্ট বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীতে আকর্ষনীয় বেতনে চাকুরী দেওয়ার নাম করে লোভনীয় অফারে মানষকে সর্বস্বান্ত করেছে।
এ ব্যাপারে নোয়াখালী জেলার সুধারামপুর উপজেলার পূর্ব এজবাড়িয়ার মো: ইবরাহীম মিয়া উত্তরা পশ্চিম থানার ১টি মামলা দায়ের করেন। গত বৃহস্পতিবার ৯ই ফেব্রয়ারী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো:শাহিন আল রশিদ সরকার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে ড্রিম হার্ট বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীর এমডি মো: শিশির আহম্মেদকে প্রধান আসামী করে উত্তরা থানার দায়েরকৃত মামলায় ২৩ জনকে আসামী করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরবেষ্টিত ইটনা উপজেলার শিমলা বড়বাড়ির মো: আবুল বাশারের পুত্র। ইতিমধ্যে ৬ জনকে রেখে বাকীদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছিলো সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক জাফর ইকবাল। সে মামলার বাদী আদালতে না রাজি হওয়ায় বর্তমানে আমি মামলাটি অধিকতর তদন্ত করছি। শিশির হলো সে মামলার প্রধান আসামী। খুব শীঘ্রই প্রতিবেদন দায়ের করা হবে।
ওই কোম্পনীর চেয়ারম্যান মো: তোফাজ্জল বাশার শিশির ওরফে শিশির আহম্মেদ ত্রিশ হাজার টাকার বিনিময়ে চাকুরীর নামে তাদের সাথে প্রতারণা করেছে’ এভাবেই বলছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের মহিনন্দের বাসিন্দা মো: রুবেল মিয়া। শুধু রুবেল মিয়াই নন বাংলাদেশের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলের সহজ সরল এরকম কয়েক হাজার বেকার ছেলেদেরকে চাকুরী দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এরকম প্রতারণার শিকার তিনি বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় ড্রিম হার্ট বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পনীর এমডি মো: শিশির আহম্মেদকে আসামী করে প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। জানা গেছে, মো: শিশির আহম্মেদ ২০১৪ সালে গাজীপুরে প্রথমে লাইফওয়ে কোম্পানীতে এ ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে ঢাকাস্থ উত্তরা পশ্চিম থানার সোনারগাঁও জনপথ রোডের ১৩ নং সেক্টরের ১৫ হাউজের দোয়েল সেন্টারের ৫ম তলা ভাড়া নিয়ে ড্রিম হার্ট বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড নামে নিজেই একটি কোম্পানী চালু করেন।
এ কোম্পানীর অধীনে হোটেল এশিয়ার উপরে ৪ নাম্বার ফ্লোরে, শ্রীপুর রেল গেইট এলাকা,গাজীপুর চৌরাসাতার সংলগ্ন দক্ষিণ পশ্চিম কোনে, উত্তরা বেরি বাঁধের আশুলিয়া রোডে, উত্তরা হাউজ বিল্ডিংয়ের সাথে বাংলাদেশ মেডিকেল এর একটি বিল্ডিংয়ে, ১২ নাম্বারের মোড়ে কেএফসি বিল্ডিংয়ের সাথের শাখা, উত্তরা ১২ মেক্টরের ময়লার মোড়ে, সেক্টর ৪ এর রাজলক্ষীর একটি ব্যাংকের সাথে, আজমপুরে,খিলক্ষেত এলাকায় গোপনে শাখা প্রশাখা খুলে প্রতিটি শাখায় কয়েক শতাধিক বেকার ছেলে মেয়েদেরকে চাকুরী দেওয়ার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা করে নিলেও তাদের কপালে কোনো চাকুরী জোটেনি। প্রতারণার শিকার অনেকেই জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলা হতে কয়েক হাজার ব্যক্তিকে চাকুরী দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা।
দেশের বিভিন্ন থানায় শিশিরের নামে মামলাও হয়েছে। এসব মামলা হলেও শিশির ধরা ছোঁয়ার বাইরে। প্রতারিত কয়েকজন জানিয়েছেন, ড্রিম হার্ট বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পারী বাজেয়াপ্ত হলেও স্মোথ ও এনডিবি নামে চালু রাখেন প্রতারণার রমরমা এ ব্যবসা। বর্তমানে হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স কোম্পানীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন ওই প্রতারক। প্রতারণার শিকার কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের বাসিন্দা কলেজ ছাত্র মো মেহেদী হাসান জানান, ওই কোম্পানীর এমডি শিশির আমার থেকে ৩০ হাজার টাকা নিলেও উল্টো উত্তরা পশ্চিম থানার দায়েরকৃত মামলায় আসামী হয়ে জেল কেটেছি। ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার বারইহাটি এলাকার চাকুরীপ্রার্থী মো: হারুন বলেন, আমার কাছ থেকে শিশির আহমেদ ৩০ হাজার টাকা নিলেও চাকুরী দেয়নি। করিমগঞ্জের বাসিন্দা আনোয়ার পাশা বলেন, ওই কোম্পানীর এমডির বাড়ি যেহেতু কিশোরগঞ্জ তাই সরল বিশ^াসে কোম্পানীতে যোগদান করেছিলাম। আমার অধীনেই শতাধিক ছেলেও যোগদান করেছিলো। কিন্ত কোম্পানীতে কিছুদিন কাজ করার পরে জানতে পারি সেটি একটি প্রতারণামুলক এমএলএম কোম্পানী। পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিশির আহমেদের ঘনিষ্ট একজন বলেন, শিশির আহমেদ একজন বড় ভয়ংকর প্রতারক। সে হাজার হাজার বেকার ছেলেদেরকে কর্মসংস্থানের নামে তাদের জীবন নষ্ট করেছে। সে ভিআইপিদের সাথে কৌশলে ভীড়ে ছবি তোলে প্রভাব বিস্তার করেও চাতুরতার সাথে প্রতারণার নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করে। ফলে সহজেই কেউ তার প্রতারণার ফাদ বুঝতে পারেনি। যারাই ্এ কোম্পানীতে চাকুরী করতে এসেছে তারাই বুঝেছে সে কত বড় ভয়ংকর প্রতারক।

