
নিউজ ডেস্কঃ
আজ ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পৃথিবীর নানা প্রান্তে ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা’ দিবস হিসেবে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দিবসটি তাদের বিদ্যাপীঠে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তাদের স্মরণে পালন করতে পারছেন না। ভাষার জন্য আত্মদানকারী রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারের অবদান সমুন্নত রাখতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত শহীদ মিনার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা। বিদ্যাপীঠে শহীদ মিনার না থাকায় বেশ কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানায়, উপজেলার ৫৪ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৬ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাত মাদরাসা, ৮৬ কিন্ডার গার্টেন ও তিন কলেজ মিলিয়ে আখাউড়া প্রায় দু'শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেই কোন শহীদ মিনার নেই। স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরাও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না। যদিও কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকে।
২০১৬ সালের (১১ ফেব্রুয়ারি) দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠানো মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, দেশের যেসব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেগুলোতে অতি দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, সেগুলো সংস্কার করার জন্য নির্দেশও দেওয়া হয়।
আখাউড়ার দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি হওয়ার পর ১০ তলা একটি ভবন, স্কুলের চারপাশে দেয়াল ও শহীদ মিনার নির্মাণের সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা প্রতি বছরই আখাউড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকে।
আখাউড়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান বলেন, আখাউড়ার ৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪২টি শহীদ মিনার আছে। ১২টি এখনও নির্মাণ করা হয়নি। তাছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণ করার জন্য আলাদা কোন বাজেট নেই। প্রতিটা সরকারি বিদ্যালয়ে প্রতি অর্থ বছরে উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য সরকার কিছু অর্থ বরাদ্দ দেয়। সে টাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করেছেন। বাকি বিদ্যালয়ে যেন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা বলেন, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকলেও যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত করার নির্দেশ দেওয়া আছে। যে সকল বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই সে সকল বিদ্যালয়ে অচিরেই যেন তারা শহীদ মিনার স্থাপন করে এবং ভাষা শহীদদের প্রতি তাদের যে শ্রদ্ধা সেটি বজায় থাকে সে বিষয়ে আমরা খুব দ্রুতই পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.