সম্পাদক
নিউজ ডেস্কঃ
স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষত কাটিয়ে না উঠতেই আবারও ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে তুরস্কে।এতে তিনজন নিহত ও ২১৩ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সয়লুর জানিয়েছেন, সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্পে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
রিখটার স্কেলে এ দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক ৪ ও ৫ দশমিক ৮। প্রথমটির কেন্দ্রস্থল দেশটির হাতায় প্রদেশের ডেফন শহরে, দ্বিতীয়টি হয় একই প্রদেশের সামানদাগ জেলায়। ভূমিকম্পের পর আরও ৩২টি পরাঘাতে কেঁপে উঠেছে তুরস্কের ওই অঞ্চল।
দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা এএফএডির তথ্য মতে, তুরস্কে ফের ভূমিকম্পের পর ৩২টি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।ফলে কেঁপে উঠে তুরস্কের ওই অঞ্চল। এছাড়া পাশের দেশ সিরিয়া, লেবানন ও মিসরেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
তুরস্কের দুর্যোগ সংস্থা লোকজনকে ভূমধ্যসাগর উপকূল থেকে দূরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কম্পনের সময় পানির উচ্চতা অন্তত ৫০ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
এ ব্যাপারে হাতায়ের মেয়র জানান, ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে লোকজন আটকা পড়েছে।
তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতায় লোকজনকে ভেঙে পড়া ভবন থেকে দূরে অবস্থানের পাশাপাশি সরকারি সতর্কবার্তা মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন।
এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি পৃথক সময়ে হওয়া দুই ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখন পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৪৫৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তুরস্কের ৪০ হাজার ৬৪২ এবং সিরিয়ায় ৫ হাজার ৮১৪ জন। তবে জাতিসংঘের ধারণা নিহতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে দুই দেশের ৪০ হাজারের বেশি ভবন ধসে পড়েছে। লাখেরও বেশি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পটিকে গত ১০০ বছরের মধ্যে তুরস্কের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ বলে উল্লেখ্য করা হয়েছে।সূত্র : আল জাজিরা, বিবিসি

