সম্পাদক
ইমন ছিদ্দিকী, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আমজাত হোসেন একজন তাঁত শিল্প শ্রমিক সপ্তাহে যা টাকা বেতন পান, তার এক অংশ জমা রাখেন মালিক খোকনের কাছে। এভাবে জমতে জমতে প্রায় ৬০ হাজার টাকার মতো হলে, আমজাত তার নিজের টাকা ফেরত পেতে মালিক খোকনকে জানান। কিন্তু টাকা চাওয়াতেই বাঁধে সমস্যা! টাকা চাওয়ার কিছুক্ষন পরই কারখানার মালামাল ও কাপড় চুরির অভিযোগ তুলে আমজাতের বিরুদ্ধে। আমজাতকে বেঁধে মারপিট করে,এবং বৈদ্যুতিক শক দেয় মালিক খোকন! কান্না করে করে এমন ভাবেই বর্ণনা করছিলেন নরসিংদী সদর উপজেলা পাইকারচর ইউনিয়নের বালাপুরের চর গ্রামের এক তাঁত শিল্প শ্রমিক আমজাত।
বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার এ করুন কাহিনি শুনে আশেপাশের কারখানা শ্রমিকরাও এই মালিকের বিরুদ্ধে ক্ষেপে যায়। সবাই এর বিচার দাবি করে প্রথমে অত্র গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি জনাব জসীম উদ্দিনের কাছে নালিশ নিয়ে আসে।পরবর্তীতে জসীম উদ্দিন সাহেব এই বিচারটি অত্র অঞ্চলের আরেকজন গন্যমান্য ব্যক্তি মাধবদী থানা আওয়ামিলীগের আহ্বায়ক জনাব সিরাজুল ইসলামের অফিসে নিয়ে বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিচারে সিরাজুল ইসলাম সহ অত্র অঞ্চলের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ পাইকারচর ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল্লাহ, মোঃ সাফায়েত হোসেন,দেলোয়ার হোসেন দেলু মেম্বার ও এলাকার সাধারন মানুষ এবং অন্যান্য তাঁত শিল্প শ্রমিকগণের উপস্থিততে একটি রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে মালিকপক্ষ অসন্তুষ্ট হয়ে নালিশ ছেড়ে উঠে গিয়ে বাজে মন্তব্য করে,এবং শ্রমিক আমজাতের ভাগিনা রাসেলকে মারধর করে জনসম্মুখে। এতে জনগন ক্ষিপ্ত হয়ে মালিকের উপর চড়াও হয়,ফলশ্রুতিতে মালিক খোকনের ছোট ভাই আলমগীর সাধারণ মানুষের গনপিটুনি খেয়ে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পরে গাউছিয়া ইউএস বাংলা হসপিতাল ভর্তি হয়।
এই গণপিটুনিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন মালিকপক্ষ, অত্র এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি ও এই বিচারের একজন বিচারক জনাব জসীম উদ্দিনকে প্রধান আসামি এবং পড়াশোনায় ব্যস্ত জসিম উদ্দিনের ছেলে জোনায়েদ হোসেন, সামনে যার পরীক্ষা এবং সে এই ঘটনার কিছুই সে জানতা না সহ মোট ৮ জনকে আসামি করে নরসিংদী বিজ্ঞ আদালতে তাঁরা মামলা দায়ের করে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মালিকপক্ষের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করার পর, এই বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁত শিল্প মালিক খোকন আমজাতকে চোর বলে সাব্যস্ত করেন এবং বিচারক জসীম উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগ তুলেন।
খোকন ও আলমগীর বলেন আমরা বিএনপির নেতা,কিন্তু আমাদের বিচার করছে সব আওয়ামিলীগের দালালরা , তাই এমন রায় দিছে যা আমি মেনে নিতে পারছিনা।
এ বিষয় মাধবদী থানা আওয়ামিলীগের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমি বিচারে ছিলাম সর্বসাধারন ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিচারের রায় করা হয়। কিন্তু খোকন ও আলমগীর তাঁদের লোকজন নিয়ে আমাদের সম্মুখেই উঠে যায় এবং বাহিরে গিয়ে আমাজাতের ভাগিনা রাসেলকে মারধর করে।এখন সে আমাকে প্রধান আসামি করে মামলা সাজিয়েছে , যা মিথ্যা ও বানোয়াট । আমরা এ মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানাই এবং এই মালিক খোকনের সুষ্ঠু বিচার চাই।

