
স্টাফ রিপোর্টার:
আন্দ্রেস এস্কোবার ১৯৯৪ এর বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের কলম্বিয়া বনাম যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে করে বসেন এক আত্মঘাতী গোল। ফলস্বরূপ কলম্বিয়া ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে বাদ হয়ে যায়। কলম্বিয়ায় তখন মাদক, সন্ত্রাসের মিলনমেলা। দেশে ফেরার পর খুব খারাপ কিছু অপেক্ষা করছিলো এটা সবাই ভেবেছিলো। কিন্ত যা হয়েছিলো তা কেউই ধারণা করেনি।
কলম্বিয়ার শহর মেডেলিনের ড্রাগ কার্টেল গ্যালন ব্রাদার্সের বডিগার্ড হুমবার্তো কাস্ট্রো মুনোজ সেই ম্যাচে বিশাল অংকের বাজি লাগিয়েছিলো কলম্বিয়ার পক্ষে। কিন্ত ম্যাচটি হেরে যাওয়ায় কলম্বিয়া বাদ তো হয়েছেই, সাথে বিশাল পরিমাণ অর্থ খোয়া গিয়েছিলো ড্রাগ কার্টেলদেরও।
কলম্বিয়ার সার্বিক অবস্থা তখন দেশের মানুষজন জানতো। তাই আন্দ্রেসের আশেপাশের মানুষজন অন্তত কিছুদিন ওকে গা ঢাকা দিয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিলো। কিন্ত আন্দ্রেস বলেছিলো সেটা করবে না ও। মানুষের সামনে মুখোমুখি হবে। দিনশেষে এটা তো একটা খেলাই। ভুলত্রুটি হওয়াটা অস্বাভাবিক না।
কিন্ত ড্রাগ কার্টেলদের কাছে টাকা ছিলো বিশেষ কিছু। আন্দ্রেস এস্কোবারের সাথে তাই সরাসরি দেখা করে মেডেলিনের ড্রাগ কার্টেলাররা৷ এস্কোবারের গাড়ির মধ্যে বসে একপ্রকার বাকবিতন্ডায় জড়ায় দুই পক্ষ। তর্কবিতর্কের একসময় কার্টেলদের একজন বন্দুক দিয়ে গুলি করা শুরু করে।
আত্মঘাতী গোল করার পর অন এয়ারে ধারাভাষ্যকার ৬ বার গোল শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছিলো। বন্দুকধারী সেই খু*নিও ৬টা গুলি করেছিলো এবং প্রত্যেকবার গুলি করার সময় 'গোল' শব্দটা ব্যবহার করেছিলো।
পরেরদিন সেই বডিগার্ডকে পুলিশ গ্রেফতার করে এবং সে খুনের দায় স্বীকার করে নেয়। ৪৩ বছরের জেল হয় মুনোজের। কিন্ত ১১ বছর পরেই ও ছাড়া পেয়ে যায়। প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষ আন্দ্রেস এস্কোবারের ফিউনারেলে অংশ নিয়েছিলো। লাশবাহী গাড়ির পেছন পেছন প্রায় ১০ মাইল হেটে এসেছিলো সবাই।
আন্দ্রেস এস্কোবারকে যখন মাটিতে শোয়ানো হচ্ছিলো, যুক্তরাষ্ট্র তখন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ খেলার জন্য মাঠে নামছিলো।
আন্দ্রেস এস্কোবার। বেঁচে থাকলে আজ ৫৬তম জন্মদিন পালন করতেন।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.