ওমর ফারুক
স্টাফ রিপোর্টার:
বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের শৌর্য বীর্যের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন আজ।
বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন আজ।
পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম জানান দেওয়ার দিন আজ।
প্রতিদিনের মতো আজও ভোরের সূর্যলোকের বর্ণছটায় রাঙাবে কৃষ্ণচূড়া গ্রামীণ পথের শেষে নদীর তীরে অসংখ্য শাখা থেকে ভেসে আসবে কোকিলের কুহতান।
শ্যামল প্রান্তের দূর দূরান্ত থেকে আজ বাজবে রাখালিয়ার মনকোড়া বাঁশির সুর।
নীল আকাশের বুকে ডানা মেলে উড়ন্ত বলাকার ঝাক। কলকাকলিতে মুখরিত হবে জনপদ।
তবুও অন্য যেকোনো দিনের চেয়েও আজকের দিনটি সম্পন্ন আলাদা।
ভিন্ন আমেজের ভিন্ন অনুভূতি ও ভিন্ন স্বাদের আমাদের এই প্রিয় স্বাধীনতা দিবস।
জাতীয় জীবনের সবচেয়ে আলোচিত সবচেয়ে গৌরবের স্মৃতি নিয়ে আবারও ফিরে এসেছে চির অম্লান আনন্দ বেদনা মিশ্রিত দিবস টি।
এক সাগর রক্ত পেরিয়ে বাঙালি জাতি পৌঁছেছে তার বিজয়ের সোনালী তরণে।
আজ বাংলাদেশের এই মহান বিজয় মহানায়ক হচ্ছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তুমি যে সুরের আগুন জ্বালিয়ে দিলে মোর প্রাণে.সেই আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে সবখানে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্রষ্টা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ এবারের সংগ্রাম.মুক্তির সংগ্রাম. এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। স্বাধীনতার অমর কাব্যের এই অংশটি দৃঢ়তার বলীয়ান করে তোলে।
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের শেষে এদিন জন্ম নেয় একটি নতুন দেশ।সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ।
ঝড়ের ভিতরে বিকশিত অটল বৃক্ষের জীবন্ত পথিক স্বাধীনতা নামের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালের মাতৃভাষার অধিকারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের পথ বেয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের আন্দোলন।১৯৫৪ সালের যুক্তফরণ নির্বাচনের জয়লাভ.১৯৫৬ সালের সংবিধান প্রণয়ন আন্দোলন. ১৯৫৮ সালের মার্শাল ল বিরোধী আন্দোলন. ১৯৬২ সালের শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন. ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন. ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যূথান. ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন.১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ ও পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন প্রভৃতি ঘটনা প্রবাহের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত লক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠেছিল বাঙালি জাতি। বাঙালি জাতি পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করে।
বাঙালি আঘাত খেয়েছে বারবার।
কিন্তু কখনো আহত পাখির মতো আর্তনাদ করেনি।
ভেঙে পড়েনি ব্যর্থতার ক্রন্দনে।
সমস্ত আঘাত বুকে পেতে নিয়েছে সর্বাঙ্গে রূধির মেখে।
অবিচারের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাড়িয়েছে।৫৫ হাজার বর্গমাইলের এই সবুজ দেশ. ৫২ বছর আগে আজকের এই দিনে উদয় হয়েছিল এক নতুন সূর্যের।
সেদিনের সেই সূর্যের আলোয় ছিল নতুন দিনের স্বপ্ন।
যে স্বপ্নে অকাতরে প্রাণ দিয়েছিল দেশের ৩০ লক্ষ মানুষ।

