
১৯৮৮ সালে ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ ( আমির খান ও জুহি চাওলা ) এবং ১৯৮৯ সালে ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ (সালমান খান ও ভাগ্যশ্রী) মুক্তি পাওয়ার পর বদলে যায় হিন্দি সিনেমার চেহারা। এই দুই ছবির বিপুল সাফল্যের মধ্য দিয়ে বলিউডে শুরু হয় তারুণ্য-যুগ। একে একে আসতে থাকেন ভবিষ্যত-সুপারস্টাররা। নব্বইয়ের শুরতেই আত্মপ্রকাশ করেন অজয় দেবগন, অক্ষয় কুমার, শাহরুখ খান, কাজল, টাবু, সোনালি বেন্দ্রেরা।
মুম্বাইয়ের ঢেউ আছড়ে পড়ে ঢাকাতেও। এখানে নতুনদের জয়জয়কার শুরু হয় ‘চাঁদনী’ ব্লকবাস্টার হওয়ার মধ্য দিয়ে। ১৯৯১ সালে নাঈম-শাবনাজের হাত ধরে শুরু হয় তারুণ্যের মিছিল। একঝাঁক নতুন মুখের আগমনে পাল্টে যেতে থাকে ঢালিউডের সনাতন রূপ। তারকাপ্রথায় দেখা দেয় নতুন সমীকরণ। শুধু ১৯৯৩ সালেই অভিষেক ঘটে সালমান শাহ, মৌসুমী ও শাবনূরের। পরবর্তী বহু বছর ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি শাসন করেছেন এই দুই চিত্রনায়িকা। আর সালমান শাহ’র প্রভাব থেকে তো এখনও বেরুতে পারেনি ঢালিউড।
১৯৯৩ সালে বলিউডেও অব্যাহত ছিল নতুনদের জোয়ার। এই বছর অভিষেক ঘটে ‘পরম্পরা’ ছবিতে সাইফ আলি খান, ‘বাজিগর’ ছবিতে শিল্পা শেঠি এবং 'আশিক আওয়ারা' ছবিতে মমতা কুলকার্নির। ২০২৩ সালে ৩০ বছর পূরণ হচ্ছে এই অভিনয়শিল্পীদের।
একই সঙ্গে ৩০ বছর পূর্তি হচ্ছে সালমান, মৌসুমী ও শাবনূরের। মার্চ মাসেই মুক্তি পেয়েছিল সালমান-মৌসুমী অভিনীত প্রথম ছবি 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত'। আমির-জুহির মতোই দুই সফল তারকার জন্ম হয়েছিল এই ছবিতে।
আর শাবনূরের আবির্ভাব 'চাঁদনী রাতে' ছবিতে। তিনি একা আসেননি, সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন সাব্বিরকে। এই নায়ক সেই সময়ে নতুনদের স্রোতে সামিল হয়েছিলেন বটে, কিন্তু নিজের তরীকে শেষ পর্যন্ত তীরে ভেড়াতে পারেননি; যেমনটা অনেক নতুনের ভাগ্যেই ঘটেছে।
১৯৯৩ সালে যাত্রা শুরু করে বলিউড ও ঢালিউডের তারকারা শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছেছেন, চলুন সেটাই খতিয়ে দেখা যাক।
মমতা কুলকার্নি নব্বই দশকে তার রূপের জন্য খ্যাতির তুঙ্গে পৌঁছেছিলেন। আমির খান, সালমান খান, অক্ষয় কুমার- বলতে গেলে সেই সময়ের সব সুপারস্টারের সঙ্গেই কাজ করেছেন মমতা। তার ক্যারিয়ার যখন রমরমা, তখন ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ছবি 'শেষ বংশধর'-এও অভিনয় করেন এই সুন্দরী। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ঝকঝকে ক্যারিয়ার তার কলংকিত হয়। অথচ তার সমসাময়িক অনেকেই সুপারস্টারের জীবন যাপন করছেন, এখনও।

শিল্পা শেঠিও এরকমই এক সুপারস্টার। যদিও অভিনেত্রী হিসেবে তার ক্যারিয়ার বর্ণাঢ্য নয় ততোটা। কিন্তু আকর্ষণীয় ফিগার আর তারকাসুলভ বৈভবের মধ্যে থেকে নিজেকে সবসময় আলোচনায় রেখেছেন তিনি। এখনও রিয়েলিটি শোয়ের বিচারক, আইপিএল টিমের মালকিন ইত্যাদি নানা পরিচয়ে মুম্বাইর প্রথম সারির তারকা 'বাজিগর' কন্যা।
সাইফ আলি খান আছেন খানদের দৌড়ে। প্রথম দিকে কাঁচা অভিনয়ের জন্য তার ক্যারিয়ার পরিপক্ব না হলেও এখন ভারতে তার মতো শক্ত অবস্থান খুব কম অভিনেতার। ভারতে ওটিটি যুগের দাপট শুরু তার প্রযোজনা ও অভিনয়ে সমৃদ্ধ 'সেকরেড গেমস' দিয়ে। সিনেমায়ও তার ব্যস্ততা বা সাফল্য চোখে পড়ার মতো।
এবার আমাদের তারকাদের নিয়ে কিছু বলা যাক। সালমান শাহ এখন সব হিসাবনিকাষের বাইরে যদিও, তবু তার প্রভাব যেন সবচেয়ে বেশি! এখনো তরুণ-তরুণীরা এই নায়কের নাম শুনলে শ্রদ্ধায় নত হোন। বেঁচে থাকলে তার অবস্থান কেমন হতো, সিনেমায় তার অবদান কতোটা হতো ইত্যাদি নানা জল্পনা-কল্পনায় আজও মুখর শোবিজ ইন্ডাস্ট্রি।
কিন্তু সালমানের সমসাময়িক, তার একাধিক ছবির নায়িকা মৌসুমী ও শাবনূর অনেকটাই নিষ্প্রভ এখন। শাবনূর দীর্ঘদিন ধরে অষ্ট্রেলিয়াপ্রবাসী। পর্দায় তার নতুন ছবি নেই বহু বছর। অফস্ক্রিনেও তার কোন উদ্যম-উদ্যেগ নেই। মৌসুমীকে এখনো পর্দায় দেখা যায় এবং কেন্দ্রিয় চরিত্রেই দেখা যায়; তবুও মন ভরে না।

বলিউডে যে উচ্চতায় শিল্পা শেঠিরা বিচরণ করছেন, সে উচ্চতায় পাওয়া যাচ্ছে না মৌসুমীদেরকে। তার সময়েরই মুম্বাই-তারকা টাবু। অজয় দেবগনের সঙ্গে তার জুটি এখনও আকর্ষণীয়। এই মার্চেরই হিন্দি ছবি 'ভোলা'য় দারুণ দুটি চরিত্রে দর্শক দেখতে পাবেন এই দুজনকে। পর্দায় হাত ধরে গান হয়তো দেখা যাবে না 'রাহো ম্যায় উনসে মোলাকাত হো গায়া' গানের জুটিকে, কিন্তু পর্দায় তাদের সাংঘর্ষিক অভিনয়ে ষোল আনা মজা লুটবেন দর্শকরা, এটা নিশ্চিত।
১৯৯৩ সালেই 'অবুঝ দুটি মন' ছবিতে অভিষেক ঘটেছিল আমিন খান। সেই হিসেবে তারও ৩০ বছর পূর্তি হচ্ছে ঢালিউডে। তার সঙ্গে একাধিক ছবিতে জুটি বেঁধে কাজ করেছেন মৌসুমী। এই দুজনকে নিয়ে অনায়াসে সিনেমা হতে পারে, হতে পারে ওয়েব ফিল্ম বা সিরিজ। কিন্তু ৩০ বছর পর তারা বিচ্ছিন্নভাবে টিকে আছেন। নতুন যুগের পতাকাবাহী সেই তারকাদের কাউকে নিয়েই ইন্ডাস্ট্রির ভাবনা নেই। নব্বই দশকের সূচনালগ্নের সেই তারকরা নিজেরাও সমিতি, সংগঠন নিয়ে মুখরোচক খবরের শিরোনাম হওয়া ছাড়া আর কিছুতে নেই এখন। যারা এভাবে শিরোনামে থাকতেও অনাগ্রহী, তারা 'অবুঝ দুটি মন' এর নায়িকা চাঁদনীর (জেমসের সাবেক স্ত্রী রথী) মতো অজ্ঞাতবাস নিয়েছেন।
বলিউডের তারকাদের সঙ্গে আমাদের তারকাদের এই মেরুসমান পার্থক্য সিনেমাপ্রেমীদের হতাশ করে। সিনেমাপ্রেমীরা চান, আমাদের তারকারাও নিজেদের অভিজ্ঞতাকে পর্দায় কাজে লাগানোর সুযোগ পান- তাদের বয়সের উপযোগী চরিত্রে ঝলসে উঠুন নব্বই দশকের মতোই।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.