সম্পাদক
স্টাফ রিপোর্টারঃ
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি বলেছেন,আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসটা সম্পর্কে জানে। আমরা যেন এই ধরনের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে তাদের সামনে আমাদের দেশের গৌরব ঐতিহ্যে ও ত্যাগের সঠিক ইতিহাসটা তুলে ধরি। ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা এ দেশের আপামর জীবনকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সমৃদ্ধ থেকে সমৃদ্ধতর করেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এত ত্যাগ, এত মর্মস্পর্শী হৃদয়বিদারক ঘটনা খুব কমই ঘটেছে। স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা দেশের ইতিহাসে তার সঠিকতা প্রয়োগ করতে পারিনি। নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারিনি দেশের সঠিক ইতিহাস। কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়, তার দায়িত্ব আমাদের দেশের সকল পর্যায়ের সচেতন দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিতে হবে।
মন্ত্রী ইমরান বলেন এই ধরনের অনুষ্ঠানে,স্বাধীনতার মহানায়ক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, জীবিত ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা শহীদদের কথা আমরা যেন স্মরণ করি। উত্তর সিলেটের সীমান্তবর্তী জনপদ গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ পিয়াইনগুল কলিমুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি আরো বলেন, আমাদের ভাগ্য ভালো আমরা শেখ হাসিনার মত একজন দূরদর্শী নেতৃত্ব দানকারী প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি।যিনি দেশ পরিচালনার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন।বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার নেতৃত্বেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামগত ব্যাপক উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসার ঘটেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মর্যাদা ও জীবন মানের উন্নয়ন হয়েছে।
পিয়াইনগুল কলিমুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন অনেক মেধামী শিক্ষার্থী সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত আছে শুনে মন্ত্রী ইমরান আহমদ আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,পিয়াইনগুল কলিমুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় এর মত এই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেয়েছেন।অনুষ্ঠানে পূর্ববর্তী বক্তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী ইমরান বলেন, আপনাদের সকল দাবি যৌক্তিক যা আমি দেশরত্ন জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে বাস্তবায়নের সর্বাত্মক চেষ্টা করব।আপনাদের কোন দাবি অপূরণ রাখবো না।
সর্বশেষ মন্ত্রী ইমরান বলেন, প্রতিটি অনুষ্ঠানের বক্তব্যের শেষে আমরা যেন জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বক্তব্যের সমাপ্তি করি।কারণ এটা আমাদের দেশের জাতীয় স্লোগান কোন দলীয় স্লোগান বা আওয়ামী লীগের স্লোগান নয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) পিয়াইনগুল কলিমুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের আয়োজনে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ মুহিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ মুজিবুর রহমান।
উদ্বোধক হিসেবে পিয়াইনগুল কলিম উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব’র উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এম. মহিবুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক আহমেদ, গোয়ানঘাটের সহকারি কমিশনার (ভূমি) তানভীর হোসেন, সিলেটর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ সেলিম , গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক,পিয়াইনগুল কলিম উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হাজী ওসমান গনি, নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন খাগাইল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, মাহবুবুর রহমান রিপন।প্রাক্তন ছাত্রদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, মইন উদ্দিন মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আজির হাসিব,ফখরু উদ্দিন, আব্দুল্লাহ,এসএম বুরহান উদ্দিন, ফরিদ আহমদ, ফয়েজ আহমদ,ফারুক আহমেদ শিপন ও আমিনুর রশিদ শামীম।মানপত্র পাঠ করে পিয়াইনগুল কলিমুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী,আফরিন জান্নাত মুনিরা।
অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অতিথিবৃন্দকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমে সভার সমাপ্তির পর সুবর্ণ জয়ন্তীর স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।অনুষ্ঠানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ছিলেন, মিসবাহ আহমদ, কামরুল হাসান,এসকে আরিফ মাহমুদ শাহীন, আলাজুর রহমান,আইয়ুব আলী, সোহান দে,সোহেল আহমদসহ সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির সকল দায়িত্বশীল ও সদস্যবৃন্দ।
এছাড়া পিয়াইনগুল কলিম উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব উপলক্ষে দিন ব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালায় জন প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিদ্যালয়ের সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

