
স্টাফ রিপোর্টার:
নির্মান সামগ্রীর উর্দ্ধ মূল্যের কারনে দেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন থমকে আছে,চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ না করে সরে পড়ছে,নির্বাচনের পুর্বে প্রতিশ্রুতি দেওয়া অবকাঠামো উন্নয়ন সম্ভব না হলে বিব্রত অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে জনপ্রতিনিধিদের।
দেশের অবকাঠামোখাতের উন্নয়ন মুখ থুবরে পড়ার উপক্রম, নির্মান সামগ্রীর আকাশচুম্বী মুল্যে দিশেহারা আবাসন শিল্প ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান,এতে বিরুপ প্রভাব পড়েছে নির্মান শিল্পের সাথে জড়িত নিম্ন আয়ের মানৃষের মাঝে,কাজ হারিয়ে বেকারত্ব জীবন যাপন করছে লক্ষ লক্ষ নির্মান শ্রমিক ও যোগালী।
নির্বাচনের পূর্বে সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া রাস্তা, ঘাট,স্কুল,কলেজ,কালভার্ট,ব্রীজ নির্মান শেষ না হলে এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের বিব্রত অবস্থায় পড়ার শংন্কা রয়েছে।২২-২৩অর্থ বছরে দরপত্রের মাধ্যমে মনোনীত অনেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বার বার চিঠি দিয়ে সুফল পাচ্ছে না বাস্তবায়ন কারী প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি,ত্রান মন্ত্রনালয়,গনপূর্ত,পানি উন্নয়ন বোর্ড।অনুসন্ধান করে জানা যায় ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের আহ্বানকৃত দরপত্রের অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো চুক্তিবদ্ধ কাজ শুরু করতে পারেনি।বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান বার বার নোটিশ দিয়ে সাড়া পাচ্ছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের,এতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে একধরনের স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে।নির্মান খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রাহক চাহিদা মোতাবেক আবাসন শিল্পে ফ্লাট সরবরাহ ও বিক্রি করতে পারছেনা বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলো।
সারা দেশের ন্যায় লালমনিরহাট জেলায় এর প্রভাব পড়েছে,সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ভাটি বাড়ী স্কুল থেকে মোগলহাট টেম্পু ষ্টান্ডের সড়কটি বিগত দেড়বছর ধরে চলাচল অনুপোযোগী হয়ে আছে,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এল,জি,ই,ডি) রাস্তা সংস্কারের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে, ২০২২ সালের জুন মাসে মনোনীত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটি সংস্কারের জন্য সড়কের হার্ডবেড তুলে সংস্কারে প্রশ্তুতি নেয় এবং মালামাল সড়কে ফেলে,বাজারে হঠাৎ করে নির্মান সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পেতে থাকে চীন রাশিয়া যুদ্ধের কারনে। দফায় দফায় দাম বাড়ায় ইট, বিটুমিন ও ফার্নেস অয়েলের দাম আকাশচুম্বি হয়ে যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে ফলে বাধ্য হয়ে দাম কমার অপেক্ষায় কাজ বন্ধ করে রাখে।পুর্বের সিডিউল রেটে প্রতি হাজার ইট ধরা রয়েছে ৮৫০০টাকা এবং প্রতি ব্যারেল বিটুমিন ধরা আছে ৮০০০ টাকা, বর্তমানে প্রতি হাজার ইট কেরিং সহ ১৩,৫০০টাকা এবং প্রতি ব্যারেল বিটুমিনের সরকারি মুল্য ১০,৫০০ অথচ সেই বিটুমিন ঠিকাদার কে কিনতে হচ্ছে ১৮,০০০ টাকা দরে।নির্মান সামগ্রীর উর্দ্ধ গতির কারনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২১০০ মিটার কার্পেটিং করে কাজ বন্ধ রেখে চুপচাপ বসে আছে।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডি সমস্যা সমাধানে চিঠি চালাচালি করছে, এদিকে হার্ডবেড তুলে ফেলায় রাস্তা এবরো থেবরো থাকায় জন সাধারনের ভোগান্তি সর্বশেষ পর্যায়ে পড়েছে।
এদিকে সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের বুমকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মানে মনোনীত ঠিকাদার কে বারবার চিঠি দিয়ে নির্মান শুরু করাতে পারেনি সদর উপজেলা প্রকৌশলী অফিস।নির্মান সামগ্রীর উর্দ্ধগতির অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করতে পারছেনা বলে সাফ জানিয়েছে।
কালিগঞ্জ উপজেলার ভোটমারি ইউনিয়নের শ্রতিধর রাস্তার মনোনীত ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম হীরা জানান, গত দুইবছরে নির্মান সামগ্রীর মূল্য আকাশচুম্বি হওয়ায় ঠিকাদারি ব্যাবসার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছে।সরকারি কাজে প্রতিহাজার ইটের মূল্য ধরা ছিল ৮৫০০ বাস্তবে বাজার মুল্য ১২৫০০টাকা,কেরিং খরচ সহ যা ১৩৫০০টাকা পড়ে,প্রতিব্যারেল বিটুমিন ধরা রয়েছে ১০৫০০টাকা বাস্তবে এর বাজার দর চলছে ১৮০০০টাকা,
আমি রাস্তার হার্ডবেড তুলে রোলার করে অপেক্ষায় আছি বিটুমিনের মূল্য কমার,১৮০০০টাকা ব্যারেল বিটুমিন কিনে কাজ করলে আমার বাড়ী বিক্রি করতে হবে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীর নিবাস নির্মানের মনোনীত ঠিকাদার রমযান আলী সুজন বলেন ২১-২২অর্থ বছরে আহ্বানকৃত দরপত্রে রডের মূল্য ধরা আছে ৮১টাকা,সিমেন্ট ৫০০টাকা,ইট ৮৫০০টাকা দরে,বাস্তবে কাজ করতে গিয়ে প্রতিহাজার ইট কেরিং সহ ১৩,৫০০টাকা,সিমেন্ট ৫৬০টাকা,রড ৯৫টাকা কেজি দরে কাজ করতে হচ্ছে।বর্তমান বাজার মুল্যে কাজ শেষ করলে দেখা শোনা ১৫লক্ষ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে আমার।
লালমনিরহাট জেলা ঠিকাদার সমিতির সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম তপন বলেন, নির্মান সামগ্রীর উর্দ্ধ মুল্যের কারনে ঠিকাদারি পেশায় সংশ্লিষ্ট পঞ্চাশ শতাং মানুষ পুঁজি হারিয়েছে,অনেকে এই পেশা ছেড়ে দিয়েছে,লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।এই পেশায় টিকে থাকতে লড়াই করতে হচ্ছে আমাদের।ঠিকাদারদের কথা তুলে ধরতে লালমনিরহাট জেলা ঠিকাদার সমিতির ব্যানারে আমরা মানববন্ধন করেছি।সরকার গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্মান সংশ্লিষ্ট বেশ কেছু পন্যের সিডিউল মূল্য বৃদ্ধি করেছে,তবে তা বাস্তব সম্মত নয়।বর্তমান সিডিউল মূল্যে কাজ করলে ঠিকাদারদের বড় অংকের লোকসান গুনতে হবে।
দেশের মেগা প্রকল্পে নির্মান সামগ্রীর বাজার মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও বাস্তবায়ন কারী সংস্থা পূনঃদাম নির্ধারন ও সমন্বয় করার সুযোগ থাকলেও ছোট ও মাঝারি প্রকল্পে সেই সুযোগ না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলো বিপাকে পড়েছে।নির্বাচনী বছরে সরকারেরর উন্নয়ন রোডম্যাপ বাস্তবায়ন এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আবাসন ও নির্মান শিল্প বাঁচিয়ে রাখতে চুক্তিমুল্যের সাথে বাজার দর সমন্বয় করার জোড়ালো দাবী উঠেছে।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.