ওমর ফারুক

মোঃ মোবারক হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:

নরসিংদীর মনোহরদীতে প্রেমিকার টিকটক আইডি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে প্রেমিক শরিফ (২১)নামে একজনকে ছুরিআঘাতে খুন করা হয়েছে।

নিহত শরিফ চালাকচর ইউনিয়নের বাঘবের গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে। গত সোমবার বিকেলে উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের চন্দনপুর গ্রামে ছুরিকাঘাতে মারাত্নকভাবে গুরুতর আহত হওয়ার ৩ দিন পর আজ বৃহস্পতিবার বিকালে শরিফ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।

পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মাধুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণী পড়ুয়া এক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল শরিফের। শরিফ প্রবাসে চলে যাওয়ার পর চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের চন্দনপুর গ্রামের আতিকুল ইসলামের ছেলে শাকিলের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মেয়ে। প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে সাকিল প্রেমিকার টিকটিক আইডির পাসওয়ার্ড জেনে নেয় । পাসওয়ার্ড জানার পর থেকে শাকিল প্রেমিকার টিকটিক আইডিতে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর ভিডিও আপলোড দিতে থাকে।

এই নিয়ে প্রেমিক শাকিল ও প্রবাস ফেরত সাবেক প্রেমিক শরিফের মাঝে ঝগড়া বাধে। শরিফ তার সাবেক প্রেমিকের টিকটিক আইডিতে আপত্তিকর ভিডিও না ছাড়তে নিষেধ করাসহ আইডির পাসওয়ার্ড চায়।এক পর্যায়ে শাকিল তা দিতে অস্বীকার করে,এবং ছুরি দিয়ে শরিফকে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে। ঘটনাস্হলেই শরিফ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্হানীয় লোকজন শরীফকে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ সময় তার অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। ঘটনার তিন দিন পর শরিফ আজ বৃহস্পতিবার (১৮ মে) বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন।এদিকে অভিযুক্ত শাকিল ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। শাকিল মাধুপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। কাঁদতে কাঁদতে নিহতের বাবা মহিউদ্দিন বলেন, ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। খুনিদের ছুরির আঘাতে সব শেষ হয়ে গেলো। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের বিচার চাই।

এবিষয়ে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন বলেন,প্রেমের ঘটনার জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় শরিফের পিতা বাদী হয়ে শাকিলকে প্রধান আসামী করে থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করে। শরিফের মৃত্যুতে সেই মামলা হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হবে। এই ঘটনায় আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।