ওমর ফারুক
মোস্তাফিজার রহমান, ফুলবাড়ি (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
বির্তকিত কর্মকান্ডে নিজেদের জড়ানোই যেন অভ্যাসে পরিনিত করেছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। গত কয়েকদিন আগে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী পোদ্দার রতন উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন অপকর্মের কথা তুলে ধরেন। সেদিনই তিনি দাবি করেন উপজেলা ছাত্রলীগের নামধারীরা মাদকাসক্ত এবং মাদক কারবারের সাথে জড়িত। নিন্দা করেন তাদের উশৃংখল আচরণেরও। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জয়ন্ত কুমার মোহন্তের বিরুদ্ধে দুই কিশোরকে জোরপূর্বক বলাৎকারের অভিযোগ ওঠায় নতুন করে ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করেছেন।
বলাৎকার কাণ্ডে অভিযুক্ত জয়ন্ত কুমার মোহন্ত ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের মধ্য পানিমাছকুটি গ্রামের মৃত দেবেন্দ্র চন্দ্র মোহন্তের ছেলে। তিনি গতকাল রোববার সকালে নিজ বাড়িতেই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। ভুক্তভোগী ওই দুই কিশোর ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
জানা গেছে, ইতিপূর্বে আরো এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছিল। সে কিশোর গ্যাং (ঝিংকু বাহিনী) পরিচালনা ছাড়াও মাদক সেবন, চোরাচালান সহ নানান অপরাধের সাথে জড়িত। ফুলবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে চুরি ও মাদক মামলা সহ তিনটি মামলার রয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই দুই কিশোর জানায়, ঘটনার দিন সকালে চার বন্ধু মিলে ফুলবাড়ীর শিশু পার্কে ঘুরতে এসেছিলেন তারা। জয়ন্তের সাথে আগে থেকে তাদের কোনো পরিচয় ছিল না। কোনো উপায়ে নম্বর সংগ্রহ করে ফোন করে দেখা করতে বলেছিল তাদের। ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে তার কফি শপের দোকানে সবাইকে ডাক দেয়। সেখানে পরিচয় হওয়ার পর কৌশলে ওই চার বন্ধুকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তিনজনকে বাড়ির সামনে চায়ের দোকানে রেখে একজনকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়।
ঘন্টাখানেক সময় পর্যন্ত বন্ধু ফিরে না আসলে তিনজন মিলে তার বাড়ির দিকে এগিয়ে যান। দরজায় গিয়ে ডাক দিলে মারমুখী হয়ে দরজা খুলে আরো এক বন্ধুকে আটক করে। অন্য দুই বন্ধু তখন ভয়ে পালিয়ে যায়। এরপর গেটে তালা লাগিয়ে মারপিট সহ গলায় ছুরি ধরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বেলা দুইটা পর্যন্ত ওই দুই বন্ধুকে আটকে রেখে বলাৎকার করে। সেখান থেকে ফিরে এসে অসুস্থ হয়ে পড়লেও ভয়ে ঘটনাটি কাউকে জানায়নি ওই দুই কিশোর। পালিয়ে আসা দুই বন্ধু তাদের পরিবারকে জানালে ভুক্তভোগী ওই দুই কিশোরকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এক ভুক্তভোগীর মা ও আরেকজনের দাদীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এসময় ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জয়ন্তের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেন তারা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জয়ন্ত কুমার মোহন্তের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ঘটনাটি অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে। ঘটনার ব্যাপারে বিশদ জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
ফুলবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোছাব্বির রহমান হ্যাভেন বলেন, কারো ব্যক্তিগত কোনো অপরাধের দ্বায়ভার সংগঠনের না। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে মাদক কারবারের সাথে জড়িত ওই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাকে ইউনিয়ন কমিটিতে নেয়ার পর বিষয়টি আমারা জানতে পারি। যাই হোক কোন অপরাধীর স্থান ছাত্রলীগে হবে না।
ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী পোদ্দার রতন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন রাতেই আমাকে বিষয়টি অবগত করেন। ফুলবাড়ীতে জয়ন্তের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফজলুর রহমান জানান, ঘটনাটি শোনার পর হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

