সম্পাদক
লেখক মিজানুর রহমান সোহাগ:
পুলিশের কাজ হচ্ছে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া। মানবিক মূল্যবোধসহ মানুষের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করতে হবে সেটা নিয়ে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে কাউন্সিলিং করা হলেও তা ঠিকঠাক কাজে আসছে না বলে দাবি সাধারণ মানুষের।
জানা যায়, পুলিশের প্রতিদিন দায়িত্ব বণ্টনের আগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ বাহিনীর ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রেখে কাজ করার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। সদর দফতর থেকে নির্দেশনা পেয়েই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের অধস্তনদের নির্দেশনা দেন সাধারণ মানুষের প্রতি কিভাবে আচরণ করতে হবে। সাধারণ মানুষের সাথে পুলিশের আচারণ যাতে পেশাদারিত্বমূলক, দায়িত্বশীল, ভদ্র হয় সে জন্য তাদের কাউন্সিলিং করা হচ্ছে।
এ কাউন্সিলিংয়ের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম , ২০১৬ সালে বাংলা ট্রিবিউন কে বলেছিলেন, থানা থেকে শুরু করে পুলিশ লাইন,পুলিশ ক্যাম্প,বিভাগ সবখানেই কাউন্সিলিং চলছে। দিনের শুরুতে পুলিশ সদস্যদের হাজিরা নেওয়ার সময় সবাইকে একসঙ্গে করে সিনিয়র অফিসাররা এই কাউন্সিলিং করছেন। এ কাউন্সিলিং কে আমরা সাধুবাদ জানাই।
তিনি আরো বলেছিলেন, তল্লাশির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কোন তল্লাশি চালাতে হলে কী নিয়ম মানতে হবে, কী ধরণের আচরণ করতে হবে তা জানানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে যেনো সম্মান দেওয়া হয়,তাদের প্রতি যেনো ভদ্র আচরণ করা হয় সেগুলো এই কাউন্সিলিংয়ে পুলিশ সদস্যদের বলা হচ্ছে।
তল্লাশির সময় নাগরিকদের যেনো ‘স্যার’ সম্বোধন করা হয়। এছাড়া, সাধারণ মানুষের অনুমতি নিয়েই আইন অনুযায়ী তল্লাশি করার কথাও পুলিশ সদস্যদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মানবাধিকারে বিষয়টিও কাউন্সিলিংয়ে গুরুত্ব সহকারে জানানো হয়েছে।
তারপরও কেন সাধারণ মানুষ পুলিশের আচারণে সন্তোষ্ট নন প্রশ্ন থেকে যায়?
সকল পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের কর্তব্য পালনকালে জনগনের সাথে সৌজন্য, সহনশীলতা ও ভদ্র, সদয় ব্যবহার করা উচিত। উর্দ্ধতন অফিসারগন তাদের নিম্মপদস্থদেরকে বুঝাবেন। যতদুর সম্ভব কম বিবাদের সৃষ্টি সম্পর্কে।
পিআরবি ৩৩(ক) বিধি – জনসাধারনের সাথে রুঢ়তা, বদমেজাজ ও নিষ্ঠুরতা করা যাবে না। যদি কেহ এরূপ আচরন করে তাহলে উর্দ্ধতন অফিসার সাথে সাথে অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।
পিআরবি ৩৩(খ)বিধি- জনসাধারনের যে কোন বিপদে পুলিশ পাশে দাড়াবে। মনে রাখতে সেবাই পুলিশের ধর্ম। পুলিশ একটি সেবা মূলক বাহিনী।
সম্প্রতি কিছু পুলিশ সদস্যের উগ্র আচরণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে আরও নিরাপত্তাহীন করে তুলছে। মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণের পরিবর্তে অস্বাভাবিক আচরণ করা হচ্ছে। মানুষের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষার সাধারণ মানদণ্ডও মেনে চলা হচ্ছে না।
আর এই সব কারণে সাধারণ মানুষের প্রতি পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানুষের প্রতি পুলিশের মানবিক আচরণের দাবিও উঠছে!

লেখক পরিচয়:
মিজানুর রহমান সোহাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিনভুক্ত সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে আইন বিভাগে অধ্যয়ন করছেন। কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ লেখায় হাতে খড়ি হলেও কর্মজীবনে তিনি কলেজে শিক্ষকতা এবং দৈনিক আমার সংবাদ, দৈনিক উত্তাপ এবং চ্যানেল ২১ এ কাজ করছেন। এছাড়াও তিনি সাংবাদিক সংগঠন “নরসিংদী রিপোর্টার্স ক্লাব” এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

