
মোঃ মাসুদ রানা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
গ্রীষ্মের রুক্ষতা ছাড়িয়ে কৃষ্ণচূড়া রক্তলাল ফুল নিজের সৌন্দর্য তুলে ধরছে তার গাছে। গাছের ডালপালা জুড়ে শুধুই কৃষ্ণচূড়া ফুলের সমারোহ। এই ফুলের অপরুপ দৃশ্য দেখে যে কারও চোখে ও মনে এনে দিতে পারে সৌভাগ্য,ফুল প্রেম ও শিল্পের দ্যোতনা।
সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, পথে-প্রান্তরে ও স্থানীয়দের বসত বাড়ির আঙ্গিণায় শোভা পাচ্ছে এসব রক্তলাল ফুল সমৃদ্ধ অসংখ্য কৃষ্ণচূড়া গাছ। এ যেন এক অপরুপ মনমুগ্ধকর ভালবাসার অনুভুতির ছোঁয়া। আর এসব কৃষ্ণচূড়া ফুলের নিজস্ব সৌন্দর্য উপভোগ করছেন ফুলপ্রিয় পথিক। প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছে কৃষ্ণচূড়ার জৌলুস।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, বসতবাড়ির আঙ্গিনায় ও পথ-প্রান্তরে কৃষ্ণচূড়ার গাছে থোকায় থোকায় রক্তলাল ফুল ফুঁটেছে। সবুজের বুকে শুধুই লালের রাজত্ব। দূর থেকে মনে হয় ময়ূর তার রাঙা পেখম মেলে দারিয়ে আছে প্রকৃতির মাঝে। লক্ষ্য করা গেছে, শহরের কালেক্টর স্কুল এন্ড কলেজ এর ভিতরে, বাজার স্টেশন কড়িতলা রাস্তার পশ্চিম পাশ্বে, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ভিতরে, র্কোট চত্বরে, যমুনা নদীর হার্ড পয়েন্টে, সদর উপজেলার ফুলকোচা কলেজ গেইটে ও ফুলকোচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েসহ জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ আঞ্চলিক সড়ক বসতবাড়ির আঙিনায় কৃষ্ণচূড়া ফুলের সমারোহ। ভোরের নরম আলো, তপ্ত দুপুর কিংবা সন্ধ্যা নামার আগেও কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন উপজেলাবাসী।
জানা যায়, কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এ বৃক্ষ যেন এখন বাঙালির ঐতিহ্যের একটা অংশ হয়ে গেছে সবার অলক্ষে। এদেশে এসে পরিচিত হয়েছে নতুন নামে। অনেকেই মনে করেন, শ্রীকৃষ্ণের নাম থেকে এ গাছ ও ফুলের নাম হয়েছে কৃষ্ণচূড়া।
প্রকৃতির শোভা বর্ধনকারী এ বৃক্ষের উচ্চতা তেমন বেশি একটা হয় না। সর্বোচ্চ ১২ মিটার পর্যন্ত উপরে উঠলেও তার শাখা-প্রশাখা বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত থাকে। কৃষ্ণচূড়া পুরো গ্রীষ্ম ও বর্ষায় প্রকৃতিকে মাতিয়ে রাখে। বিভিন্ন দেশে এই ফুল বিভিন্ন সময়ে ফুটলেও বাংলাদেশে ফুটে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। এই পুরো সময়টাতেই কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিকে মাতিয়ে রাখে উজ্জ্বল লাল আভায়।
কৃষ্ণচূড়া বাঙালির কাছে অতিপরিচিত একটি ফুল। বাঙালির কবিতা, সাহিত্য, গান ও নানা উপমায় এর রূপের মোহনীয় বর্ণনা বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মোহনীয় রূপে প্রকৃতির শোভা বর্ধনকারী এ বৃক্ষ এখনো গ্রামবাংলার পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়। প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের ছোঁয়া পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কৃষ্ণচূড়া তার রক্তিম আভা ছড়ানোর মাধ্যমে জানান দেয়-সে এখনও টিকে আছে প্রকৃতিকে সাজাবে বলে।
ফুল প্রেমি সিরাজুল ইসলাম শিশির বলেন, এক সময় কৃষ্ণচূড়া গাছ প্রকৃতিতে অনেক বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমে আসছে। কৃষ্ণচূড়া গাছের কাঠ তেমন গুরুত্ব বহন না করায় এবং গাছটি খুব ধীর গতিতে বেড়ে উঠায় এই গাছ রোপণে আগ্রহ নেই কারও। তবে এটি আমাদের প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়া ফুল প্রকৃতি আমাদের উপহারস্বরূপ দিয়েছে। তবে প্রকৃতিকে সাজাতে আমাদেরও সবার এগিয়ে আসা উচিত। আবু - সুফিয়ান নামে এক শিক্ষার্থী জানান, কৃষ্ণচূড়া অবশ্যই প্রকৃতির শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ। তবে এর অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে। যা আমাদের অনেকেরই অজানা। এছাড়া গ্রীষ্মের খরতাপে ছায়াদান করে কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষ।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.