ওমর ফারুক

মোঃ মোবারক হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:

নরসিংদীর মনোহরদীতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর হোসেন (২৭) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের উরুলিয়া গ্রামে। নিহত জাহাঙ্গীর হোসেন উরুলিয়া গ্রামের মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে ছিল। এ ঘটনায় একই গ্রামের শাহীন (২০) ও তানজিল (২৬) নামে আরও দুই জন গুরুতর আহত হয়েছে।

নিহতের পরিবার, পুলিশ ও এলাকাবাসীর সুত্রে জানা যায়, ঘটনার অন্তত ১৪ দিন আগে উরুলিয়া গ্রামে পার্শ্ববর্তী দুই গ্রাম উরুলিয়া ও মীর্জাপুর গ্রামের মধ্যে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত জাহাঙ্গীরের সাথে পার্শ্ববর্তী মির্জাপুর গ্রামের ফুটবল খেলোয়ার ও তাদের সমর্থকদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে।

সে ঘটনার অন্তত ১৪ দিন পর রোববার (১১ জুন) বিকালে জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার দুই বন্ধু শাহীন ও তানজীলকে নিয়ে ঘুরাফেরা শেষে চালাকচর বাজার রয়েল ফাস্টফুড থেকে তিন বন্ধু খাবার খেয়ে মোটরসাইকেল যোগে সন্ধ্যার পর নিজ গ্রাম উরুলিয়া যাওয়ার পথে চালাকচর বাজার সংলগ্ন চালাকচর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছলে পৃর্বে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আনুমানিক ৮-১০ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ দুর্বৃত্তের দল মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়।

এ সময় দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার দুই বন্ধু শাহীন ও তানজীলকে বেধড়ক মারপিট করে। দুর্বৃত্তদের মারপিটে জাহাঙ্গীর হোসেন ও শাহীন মিয়া রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তানজীল গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে গিয়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেয়।

এ সময় তাদের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সঙ্ঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে গুরুতর আহত জাহাঙ্গীর হোসেনকে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে এবং শাহীনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জাহাঙ্গীরের অবস্থা আশংকাজনক হলে তাকে ল্যাব এইড হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠানো হয়। ঘটনার ৫ দিন পর জাহাঙ্গীর শুক্রবার (১৬ জুন) রাত নয়টার দিকে মারা যান।

নিহত জাহাঙ্গীর হোসেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়া ইউনিভার্সিটির বিবিএর শেষ বর্ষের ছাত্র ছিল। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সুমন মিয়া বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর থানায় একটি মারপিটের অভিযোগ করা হয়েছিল। এটি এখন হত্যাকান্ডের ধারায় পরিণত হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানান তিনি।