ওমর ফারুক
আরিফ হোসাইন, ববি প্রতিনিধি:
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৯ পেয়েছেন পেয়েছেন বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার তালাপ্রসাদ নামক অজপাড়াগাঁয়ের কৃষক পরিবারের সন্তান মোঃ আল-ইমারান।তিনি স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৯৮ এবং স্নাতকোত্তরে ৪.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
ইমরান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদে প্রথম হওয়াতে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পেয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
পারিবারিক দারিদ্র্যতা, চলার পথে নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ইমরান আজ প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন। সাফল্যের এই দ্বারপ্রান্তে পৌছানোটা খুব সহজ ছিল না তার জন্য। টিউশনি করিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সাধ্যমতো আর্থিক সহযোগিতা করতেন তিনি।
কৃষক পিতা নাসিরুল আমিন ও গৃহিণী মায়ের ৩ সন্তানের মাঝে ইমরানই বড়।তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবাকেও সাহায্য করতে হতো তার।
ইমরান মসজিদবাড়ি মাদ্রাসা থেকে ২০১২ সালে এসএসসি এবং গুঠিয়া আইডিয়াল কলেজ থেকে ২০১৪ সালে এইচএসসি পাস করেন।ছোটবেলা থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থী ইমরানের এসএসসি এবং এইচএসসি দুইটাতেই ছিল জিপিএ ৫।
কিন্তু জীবনের প্রথম এবং কঠিন হোঁচট খায় ভর্তি পরীক্ষায়।সরকারি মেডিকেল কলেজে পাড়ার স্বপ্ন থাকলেও কোনো মেডিকেল কলেজে চান্স পাননি তিনি।এক প্রকার বাধ্য হয়েই ভর্তি হয়েছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে।তখনকার সময় মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানের মতো এতো উন্নত ছিল না,ইংরেজি শিক্ষার উপর তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না।তাঁর সেই ইংরেজির দূর্বলতা কাটাতেও কম কষ্ট করতে হয়নি তাঁর।
কঠোর অধ্যাবসায়, নিয়মিত ক্লাস করা এবং প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন পড়াই ছিল তার এতো ভালো ফলাফলের মূল চাবিকাঠি।
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাওয়ার পর তার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।আমার আজকের এই অবস্থানের পিছনে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অনেক ভূমিকা রয়েছে। আমাদের বিভাগে কোনো সেশনজট ছিল না,তাই কখনো হতাশা অনুভব করিনি।তাছাড়া শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নিতেন এবং আন্তরিক ছিলেন।
তিনি আরোও বলেন, প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন পড়লে পরীক্ষার আগে খুব বেশি পড়তে হয় না এবং ভালো ফলাফল করাটাও সহজ হয়ে যায়।
তিনি ভবিষ্যতে দেশের একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক হয়ে দেশ ও সমাজের সেবা করতে চান।
শিক্ষার্থীদের প্রতি তার পরামর্শ নিয়মিত ক্লাস করা, মনোযোগ দিয়ে লেকচার শোনা ও শিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে ও তাদের যথাযথ সম্মান করা।

