ওমর ফারুক

বিজয় কর রতন, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রার্থিতা জানান দিতে মাঠে নেমে পড়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

দলীয় কর্মকাণ্ডে সরব উপস্থিতিসহ সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতারা।জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর -হোসেনপুর) আসনটি অধিক গুরুত্ব বহন করে।

এ আসনটি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে।তবে আসন পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি।আর একক নির্বাচন করতে চায় জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা বলছেন,সদর আসন সহ ছয়টি আসনই ধরে রাখতে কাজ করছে জেলা আওয়ামী লীগ।

সে অনুযায়ী জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটিগুলোকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। বিএনপি বলছে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে মানুষ বিএনপি প্রার্থীদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা দল ও এলাকায় যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। কারা দলীয় প্রার্থী হতে পারেন এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। কিছু প্রার্থী এলাকায় অনুপস্থিত থাকলেও নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনের পাচঁ বারের জাতীয় সংসদ সদস্য সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এ আসন থেকে সৈয়দ আশরাফ টানা পাচঁ বার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে সাবেক কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের (সদর) সঙ্গে হোসেনপুর উপজেলা যুক্ত করে নতুন করে কিশোরগঞ্জ-১ আসন বিন্যস্ত করা হয়। এর আগে হোসেনপুর উপজেলা পাকুন্দিয়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার ৮৪ জন। জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-১ আসনটি গুরুত্বপূর্ণ।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাধীনতার পর প্রথম সংসদ নির্বাচনে সদর থেকে নির্বাচিত হন।

সংসদীয় নির্বাচনী ইতিহাস থেকে জানা যায়, স্বাধীনতার পর এগারটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সাতবার, বিএনপি তিনবার ও জাতীয় পার্টি একবার এই আসন থেকে বিজয়ী হয়। স্বাধীনতার পর দ্বিতীয় সংসদে ১৯৭৯ সালে বিএনপির ডা. ফজলুল করিম, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির আলমগীর হোসেন, ১৯৯১ সালে বিএনপির মাওলানা আতাউর রহমান খান, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির মাসুদ হিলালী, একই বছরের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এবং ২০০১, ২০০৮,২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পর পর নির্বাচিত হন। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ডা:জাকিয়া নূর লিপি।তিনি এবারো আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন।

তবে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে জোর আলোচনায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি কৃষিবিদ মসিউর রহমান হুমায়ুন।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত সৈয়দ আশরাফ থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলে তার সাথে আওয়ামীলীগের বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয় মসিউর রহমান হুমায়ুনকে।

মসিউর রহমান হুমায়ূন ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে তার রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ।তা ছাড়া অসহায় হতদরিদ্র রোগীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের চেক প্রদানে তার রয়েছে সুখ্যাতি।

এ আসনে এছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন জেলা আ.লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু, মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলাম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি পূত্র রাসেল আহমেদ তুহিন।

বিএনপি থেকে এই আসনে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হিলালী। দলের সাংগঠনিক তৎপরতা থেকে তিনি এখন অনেকটা দূরে।

এছাড়া গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি,সাবেক ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ রেজাউল করিম খান চুন্নু।এবার ও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী।

এ ছাড়াও জেলা কমিটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম,সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়ালীউল্লাহ রাব্বানী,বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি এড.শরিফুল ইসলাম শরীফ,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সাবেক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল,সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ভিপি হাজী ইসরাইলের নাম শোনা যাচ্ছে।

এ ছাড়া কমিটির বাইরে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য সেলের সদস্যসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ সেলু দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করতে চান জেলা সভাপতি আশরাফ উদ্দিন রেনু।এদিকে ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল গণতন্ত্রী পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাড. ভূপেন্দ্র চন্দ্র ভৌমিক এই আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী।কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি উপ-নির্বাচনে গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন ও জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

পরবর্তীতে তারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করলে সৈয়দ আশরাফের বোন ডা:সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি বিনাপ্রতিদ্বন্দীতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এবারো অ্যাড. ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।গণতন্ত্রী পার্টি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলের শরিক।

এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিশেষ বেগ পেতে হবে না।জাপা এবং আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ভালো হওয়ায় বিএনপি নির্বাচনে না গেলে আওয়ামী বিরোধী ভোট ও বিএনপির ভোট নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।