সম্পাদক
মোঃ এস এম আবদুল্লাহ, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোলামগাড়ীহাটে জুনায়েদ টেলিকম নামে এক মোবাইলের দোকানে চুরির ঘটনায় সন্দেহমুলকভাবে এক চোরকে আটক করেছে মালিক পক্ষ। এ ঘটনায় চোরকে পুলিশের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এমন কথা শুনে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য দোকান মালিককে চুরির ঘটনায় সমঝোতার আশ্বাস দেন। সন্ধ্যায় বসে সমঝোতা করা হবে বলে চোরকে ছেড়ে দেন। সমঝোতা তো দূরের কথা রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও চোরসহ স্থানীয় ইউপি সদস্য হাজির হননি। বরং উল্টো ওই চোর মোবাইল ফোনের দোকান মালিককে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনা রবিবার রাতে মোলামগাড়ীহাটে ঘটেছে।
পুলিশ, দোকান মালিক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার মোলামগাড়ীহাটে অবস্থিত জুনায়েদ টেলিকমের (মোবাইল দোকান) স্বত্ত্বাধীকার কাদিরপুর গ্রামের জুয়েল রানা তার দোকান বন্ধ করে বাড়ীতে যান। রবিবার সকালে দোকান ঘরের সার্টার গেট খোলার পর দেখতে পান তার দোকানে চুরি হয়েছে। উপরের টিনের ছাউনি কেটে চোরেরা ঘরে ঢুকে নগদ ক্যাশ ৭০ হাজার টাকা, বিভিন্ন কোম্পানীর দামী মোবাইল সেট, মিনিট ও এমবি কার্ড নিয়ে যায়। এতে দোকান মালিকের নগদ টাকাসহ প্রায় ৬ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়।
এ অবস্থায় দোকান মালিকের সন্দেহ হয় দিনাজপুরের সৈয়দপুর উপজেলা থেকে ওঠে আসা উপজেলার বাখরা গ্রামের আব্দুস সামাদের ঘরজামাই সাগর হোসেনের উপর। সাগর এর আগেও বিভিন্ন চুরির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তার নামে বিভিন্ন থানায় মামলাও রয়েছে। রবিবার সকাল ৯টার দিকে সাগর মোলামগাড়ীহাটে আসলে দোকান মালিক জুয়েল রানাসহ স্থানীয়রা তাকে আটকিয়ে পুলিশে খবর দেন। এ খবর পেয়ে স্থানীয় জিন্দারপুর ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম ঘটনাস্থলে আসেন এবং সমঝোতার কথা বলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই চোর সাগরকে ছেড়ে দেন। সমঝোতার বিষয়ে সন্ধ্যায় বৈঠকের কথা থাকলেও রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চোরসহ ইউপি সদস্য খোরশেদ সেখানে উপস্থিত হননি।
জুনায়েদ টেলিকমের স্বত্ত্বাধীকার জুয়েল রানা বলেন, সাগর একজন কুখ্যাত চোর। সে দীর্ঘদিন ধরে শশুর বাড়ীতে ঘর জামাই থেকে এ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার চুরির কাজে জড়িত। তার নামে বিভিন্ন থানায় মামলাও রয়েছে। এলাকায়ও তাকে নিয়ে দরবার-শালিশ হয়েছে। সে শনিবার বিকেলে এসে আমার দোকানে কোথায় সিসি ক্যামেরা আছে সে বিষয়ে আমার সাথে বলে দেখে গেছে। সেই-ই আমার দোকানে চুরি করেছে। তাকে আটকের পর আমরা পুলিশকে খবর দেই। এর কিছুক্ষন পর খোরশেদ মেম্বার এসে সমঝোতার কথা বলে সাগরকে ছেড়ে নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় বসার কথা থাকলেও রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কেউ আসেনি। পরে আমরা যে যার মত বাড়ীতে চলে আসি। এখন উল্টো সাগর আমাকে ফোনে ভয়ভীতি দিয়ে যাচ্ছে।
ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, সাগর চোর এটা সত্য। এর আগেও চুরির ঘটনায় পরিষদে তার বিচার-সালিশও হয়েছে। তবে এ ঘটনার সাথে সে জড়িত কিনা তা আমার জানা নেই। তাকে সন্দেহমুলক আটক করা হয়েছিল। সে কারনেই উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে আমার জিম্মায় নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।গতকাল সন্ধ্যায় এ বিষয়ে পরিষদে বসার কথা ছিল কিন্তু আমি ব্যক্তিগত কাজে বাহিরে থাকায় বৈঠক হয়নি। তবে আজ (সোমবার রাতে) বৈঠকে বসা হবে।
জিন্দারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, চুরির বিষয়ে শুনেছি, তাছাড়া সাগরকে সন্দেহমূলক আটক করা হয়েছিল তাও জানি। ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম সমঝোতার কথা বলে তাকে ছেড়ে দিয়েছে তা সত্য। সাগর একজন চোর। তার নামে বিভিন্ন থানায় মামলাও চলমান রয়েছে। সে এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে। তাকে ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াসিম আল বারী বলেন, চুরির ঘটনায় সন্দেহমূলকভাবে একজনকে আটকের বিষয় জেনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সেখানে গিয়ে কাউকে পায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগও করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

