ওমর ফারুক
মো. শাহাদাৎ হোসেন,শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ
ছাত্রদের সঙ্গে পুকুরে ওজু করতে না যাওয়ায় বাগেরহাটের শরণখোলায় নবম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে।
আহত ছাত্রী মোসা. আবিদা সুলতানাকে উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
মাদ্রাসা সুপারের মারপিটের শিকার ছাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মাদ্রাসা সুপারের মারপিটের শিকার ছাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বুধবার (২৬ জুলাই) দুপুরে শরণখোলা উপজেলার খাদা এজিএম দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী মোসাঃ আবিদা সুলতানা শরণখোলা উপজেলার উত্তর তাফালবাড়ি গ্রামের মাওলানা এমাদুল হকের মেয়ে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা মাদ্রাসা সুপার মাওলানা ওবায়দুল হক সেলিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
আহত মোসাঃ আবিদা সুলতানা বলে, “আমাদের মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ওবায়দুল হক হুজুর দুপুরে মাদ্রাসার ছেলে-মেয়েদের একসঙ্গে পুকুরে ওজু করতে যেতে বলে।
ছেলেদের সামনে মুখ খুলে পুকুরে ওজু করতে যেতে না চাওয়ায় হুজুর আমাকে মাদ্রাসা ভবনের দোতলা থেকে মারতে মারতে পুকুরের কাছে নিয়ে যায়, সেখানে নিয়ে হাত দিয়ে পিঠে মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকে।
আমাকে পুকুরের ঘাটের পাশে একটি গাছের ওপর নিয়ে ফেলে। আমি সেখানে অজ্ঞান হয়ে যাই।
পরে আমাকে আহত অবস্থায় মাদ্রাসার একটি কক্ষে অনেকক্ষণ আটকে রাখা হয়। যেভাবে আমাকে মারা হয়েছে তাতে আমি মরেই যেতাম। আমি হুজুরের বিচার চাই।”
আবিদা সুলতানার বাবা মাওলানা এমাদুল হক বলেন, ‘আমার মেয়ে মাদ্রাসার মেধাবী ছাত্রী।
মাদ্রাসার যেকোনো সমস্যার বিষয়ে অন্য ছাত্রছাত্রীরা আমার মেয়ের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছে বলে থাকে। বুধবার দুপুরে হুজুর যখন সব ছেলে-মেয়েকে একসঙ্গে ওজু করতে যেতে বলেছে, তখন আমার মেয়ে অন্য মেয়েদের হয়ে এর প্রতিবাদ করছে।
এজন্য আমার মেয়েকে এভাবে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। মাদ্রাসা সুপার আমার মেয়েকে মারধর করে সেটা ধামাচাপা দেয়ার জন্য হাসপাতালে না নিয়ে মাদ্রাসার কক্ষে আটকে রাখে।
পরে আমার ছেলে রেদওয়ান খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। আমার মেয়ের নির্যাতনকারীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
এবিষয়ে কথা বলার জন্য মাদ্রাসা সুপার মাওলানা ওবায়দুল হক সেলিমকে একাধিকবার ফোন করেও তার সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, “আমার কাছে এখনও কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। আমি বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।”

