
আশিকুর রহমান,কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
সবাই জানে শিয়াল খুবই চালাক প্রাণী এমনকি বই পুস্তকেও তাই পাওয়া যায়। আবার গ্রামে-গঞ্জে পালিত হাঁস-মুরগির প্রধান শত্রু হচ্ছে শিয়াল। সুযোগ পেলেই হাস মুরগীর জীবন নাশ করে দেয় এই শিয়াল মশাই। বাংলায় জনপ্রিয় প্রবাদও রয়েছে, ‘শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়া।’
তবে প্রবাদের ব্যতিক্রমও যে মাঝে মাঝে ঘটে তারই এক দৃষ্টান্ত দেখা গেল নেত্রকোনার জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের নয়নকান্দি গ্রামে। সেখানে দেখা যায়,হাঁস-মুরগি ও শেয়াল একই পাত্রে খাচ্ছে, থাকছে একই বাড়িতে। এমনকি রাতেও একই ঘরে নিরভাবনায় কাটছে তাদের জীবন যাপন। বিষয়টি শুনতে বা ভাবতে অবাক লাগলেও বাস্তবে শেয়াল-মুরগির দোস্তি দেখতে উপজেলার নয়নকান্দি গ্রামে ভিড় করছে উৎসুক জনতা।
শিয়ালের মালিক আজিজুল হকের স্ত্রী সুমা আক্তার জানান, হাঁস-মুরগি ও লালু (শেয়াল) এক পাত্রে খাবার খায়। পশু-পাখির সঙ্গে সে থাকে। শিয়ালটি তাদের কোনো ক্ষতি করে না। খোঁজ নিয়া দেখা যায়, লালু বাড়ির পাশে একটি টিলার ওপর বসে আছে। আর উঠানে ছাগল, হাঁস, মুরগি ঘুরছে-ফিরছে। দেখে মনে হচ্ছিল তারা যেন একই পরিবারের সদস্য।
সুমা আক্তার বলেন, দেড় বছর আগে তার স্বামী আজিজুল হক নাজিরপুর ইউনিয়নের লোহারগাও এলাকায় কাজে যান। সেখানের একটি জলাশয়ে মাছ ধরছিলেন কয়েকজন আদিবাসী নারী। তারা দেখেন পাশের একটি জঙ্গলে তিনটি শিয়ালের বাচ্চা ঘুরছে। পরে তারা বাচ্চাগুলোকে উদ্ধার করেন। এর মধ্যে থেকে একটি বাচ্চা বাড়ি নিয়ে আসেন আজিজুল। তখন বাচ্চাটির বয়স প্রায় তিন মাস। বোতলে করে দুধ খাওয়ানো হতো লালুকে। পরে শিয়ালটিকে মানুষের খাবার খাওয়ানো হয়। তাতে সে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। বর্তমানে লালুর বয়স প্রায় দুই বছর। হাঁস-মুরগির খাবার সে খায়। সারাদিন উঠানে ঘুরে বেড়ায়। রাতে পশু-পাখির সঙ্গে একই ঘরে সে থাকে।
তিনি আরও বলেন, যেখানে শিয়াল বিভিন্ন প্রাণীকে খেয়ে ফেলার কথা সেখানে এই শিয়াল পাহারাদার হিসাবে কাজ করছে। অন্য কোন শিয়াল তাদেরকে আক্রমণ করতে পারে না। ফলে আমার হাঁস মুরগীর সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেশি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘আমরা জানি শিয়াল হচ্ছে মাংসাশী প্রাণী। যেসব প্রাণীর জলাতঙ্ক বা জীবাণু বহন করে তাদের মধ্যে শেয়াল অন্যতম। সেক্ষেত্রে জলাতঙ্ক টিকা শিয়াল ও পালনকারী দুজনকেই নেওয়া উচিত। আর শিয়ালের প্রধান খাবার প্রাণীর মাংস, খরগোশ, ইঁদুর, টিকটিকি, মুরগি, হাঁস, ইত্যাদি। তাই সবাইকে সাবধানে থাকার পরামর্শ ও দেন তিনি।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.