
নিউজ ডেস্ক:
ভাগনারের সঙ্গে যুক্ত মিডিয়া জানিয়েছে, জেট-দুর্ঘটনায় প্রিগোজিন মারা গেছেন। তারা এই দুর্ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে।
রাশিয়া জানিয়েছে, বিমানে যাত্রী ও কর্মী মিলিয়ে দশজন ছিলেন, সকলেই মৃত। পরে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রোসাভিয়েশন জানিয়েছে, যাত্রী তালিকায় ইয়েভগেনি প্রিগোজিনের নাম ছিল। মোট সাতজন যাত্রী ও তিনজন বিমানকর্মী ওই দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানে ছিলেন।বিমানটি মস্কো থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গে যাচ্ছিল। বুধবার রাতে তিয়েভের এলাকায় তা ভেঙে পড়ে।
এমনিতে যে বিমানে করে প্রিগোজিন যাচ্ছিলেন বলে খবর, সেটিকে নিরাপদ বিমান বলে মনে করা হয়। গত ২০ বছরে এমব্রেয়ার ১৩৫ বিমান একবারই দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল। ভাগনার বাহিনীর সঙ্গে য়ুক্ত টেলিগ্রাম চ্যানেলে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার সেনা বিমানটিকে গুলি করে নামিয়েছে। বিবিসি এই খবর দিয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, দুর্ঘটনার ৩০ সেকেন্ড আগে পর্যন্ত বিমানটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা যায়নি। হঠাৎ, তা নিচের দিকে নেমে যায়।
আর রোসাভিয়েশন জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনার তদন্ত করছে। ফৌজদারি তদন্ত হবে।
ভাগনার হলো ভাড়াটে বাহিনী এবং ইউক্রেনে তারা রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করছিল। পূর্ব ইউক্রেনে তারা একেবারে সামনের সারিতে ছিল। কিন্তু পরে প্রিগোজিনের সঙ্গে রাশিয়ার সামরিক-কর্তাদের মতবিরোধ হয়। গত জুন মাসে প্রিগোজিন মস্কো অভিযান করেন। তখন বেলারুশের মধ্যস্থতায় তিনি শেষপর্যন্ত মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন।তার মাস দুয়েকের মধ্যে এই ঘটনা ঘটলো।
এই দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানে কী হয়েছিল তা নিয়ে রহস্য আছে। ২৬ হাজার ফিট উপরে বিমানটি উড়ছিল। যাত্রা শুরুর আধঘণ্টা পরে বিমানের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। বিমানটি নিচের দিকে খাড়া নেমে আসে এবং মাটিতে আছড়ে পড়ে। তাতে আগুন ধরে যায়।ভাগনারের তরফে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, তারা দুইটি বিস্ফোরণের শব্দ পেয়েছিলেন।
ডিডাব্লিউর রাশিয়ার ব্যুরো চিফ জুরি জানিয়েছেন, ''প্রিগোজিন অত্যন্ত ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছিলেন। তিনি রাশিয়ার কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে এমন সব মন্তব্য করেছেন যা হজম করা রুশ কর্তৃপক্ষের কাছে কঠিন। এমনটা হতেই পারে, এই বিমান দুর্ঘটনা আসলে কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নয়।'' তিনি বলেছেন, ''প্রিগোজিন মারা গেলে ভাগনার বাহিনী আর টিকে থাকবে কিনা সন্দেহ।''
দুই দিন আগে তার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, প্রিগোজিন আফ্রিকায় আছেন। বিদ্রোহের পর সেটাই ছিল তার প্রথম ভিডিও।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তিনি এই খবরে অবাক হননি। তার দাবি, রাশিয়ায় পুটিনের সম্মতি ছাড়া কোনো কিছুই ঘটে না। তবে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নেই বলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।
পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, প্রিগোজিনের মৃত্যু হঠাৎ করে হয়নি। তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। পুটিন তাকে থ্রেট বলে মনে করতেন।
এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যদি এই খবর সত্যি হয়, তাহলে বোঝা যাচ্ছে, পুটিন তার বিরোধীদের প্রতি কীরকম ব্যবহার করেন।খবর: ডিডব্লিউ
সম্পাদক- আবদুর রহমান
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.