ওমর ফারুক

শাহ কামাল, গাইবান্ধা সদর প্রতিনিধিঃ
নেপোলিয়ন বলেছিলেন ‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি দিব’। সুতরাং একথা অনস্বীকার্য যে, সন্তানের ভবিষ্যৎ গঠনে মায়ের ভূমিকাই প্রধান।

সন্তানের নৈতিক চরিত্র গঠন ও আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় অভিভাবক হিসেবে মায়ের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, যাকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার ভিত তৈরি করা গেলে তা আরো বাস্তবমুখী ও গুণগত মানের হয়ে উঠবে সন্দেহ নেই। জন্মের পর অসহায় শিশুকে শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে মা-ই কথা বলতে, পথ চলতে শেখান। সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে মায়ের ভূমিকাই অপরিসীম।

প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে একটি শিশুর সুদীর্ঘ পথ-পরিক্রমার প্রারম্ভিক ধাপ। মায়ের হাত ধরে গুটিগুটি পায়ে যখন একটি শিশু প্রথমবারের মতো বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পা রাখে, তখন শুরু হয় তার নতুন জগতে পথচলা। আর এই নতুন পথচলাকে আরো মসৃণ করতে একজন মায়ের সচেতনতাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

এজন্য প্রতিমাসে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মা-সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের সকল শিশুর মায়েদেরকে প্রতিমাসে একটি নির্দিষ্ট দিনে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয় এবং এদিন সকল শিশুশিক্ষার্থী তাদের মায়েদের সাথে বিদ্যালয়ে হাজির হয়। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুশিক্ষার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার জন্যই মূলত এই মা সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মা সমাবেশের মাধ্যমে শিশুর আচার-আচরণ সম্পর্কে অবহিত করা, শিশুর মধ্যে কোন অস্বাভাবিকতা থাকলে তা জানা, শিশুর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে শিক্ষক ও পরিবারের মধ্যে তথ্য বিনিময় করা, কোন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে আসার বিষয়ে কেমন আগ্রহ তা জানা অথবা বিদ্যালয়ে না আসার প্রবণতা থাকলে তার কারণ উদ্ঘাটন করা হয়। শিক্ষা জীবনে শিক্ষার্থী কেমন ফলাফল করছে এসকল বিষয় মাকে অবহিত করা হয়, যাতে আশানুরূপ ফলাফল অর্জনে মা তার সন্তানের প্রতি আরো যত্নবান হতে পারেন।

তেমনি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী পৌরসভার শিমুলিয়া ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর )দুপুরে স্কুল মাঠে এ সভা হয়। এতে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছিলেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান দোলন। কাজের চাপ থাকায় তিনি উপস্থিত হতে পারেননি বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।


উক্ত স্কুলের সভাপতি কমলা কান্ত রায় এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন,প্রধান শিক্ষক রত্না রানী সরকার,জাতীয় দৈনিক ভোরের দর্পণ পত্রিকার পলাশবাড়ী প্রতিনিধি মো.শাহরিয়ার কবির আকন্দ,জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার প্রতিনিধি সোহেল রানা,দৈনিক জনসংকেত পত্রিকার প্রতিনিধি এহসানুল হক মিলন মন্ডল, সহকারি শিক্ষক ববিতা রানী,মোর্শেদা বেগম, তামান্না আকতার,রোমানা সরকার,শাহিনুর আক্তার, অভিভাবক প্রতিনিধি সদস্য,মায়েদের মাঝে কয়েকজন।এসময় প্রধান শিক্ষক স্কুলের পরিবেশ সুন্দর রাখতে ও শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নে মায়েদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।যাতে তারা তাদের ছেলে-মেয়েদের ঠিকমতো স্কুলে পাঠান।