ওমর ফারুক
মো কামাল হোসেন,আন্দুলবাড়ীয়া (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী এলাকার প্রান্তিক কৃষক মো: সাহিজুর রহমান গত জুলাই মাসে হিজলগাড়ি এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে তার সাড়ে তিন বিঘা জমির সম্পুর্ন ভুট্টা বিক্রয় করেন।
গাড়ি ভর্তি সেই ভুট্টাগুলোর ওজন দেয়া হয় হিজলগাড়ি বাজারে মেসার্স রাজু ডিজিটাল ব্রিজ স্কেলে। বিক্রয়ের পর স্কেলের ওজন নিয়ে কৃষকের সন্দেহ হয় এবং প্রতারিত হয়েছেন বলে ধারণা করেন।
পরবর্তীতে ঐ কৃষক তার কৌতুহল ও সন্দেহ নিবারণের জন্য আবারও ঐ একই ব্যবসায়ীর কাছে তার আত্মীয়ের এক ট্রলি ভুট্টা একই স্কেলে ওজন দিয়ে বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এবার সে হিজলগাড়ি রাজু ডিজিটাল ব্রিজ স্কেলে নেবার আগে দর্শনা বাজারের অন্য একটি স্কেল থেকে ওজন করে নেন এবং এখানে সম্পুর্ণ ভুট্টার ওজন আসে ৩৮৩৫ কেজি।
ওজন করে সে ব্যবসায়ীর কথা মত আবার চলে যায় হিজলগাড়ি রাজু ডিজিটাল ব্রিজ স্কেলে। এবার সেখানে ওজন করার পর স্কেল অপারেটর ওজন বলেন ৩৬২৫ কেজি অর্থাৎ ২১০ কেজি কম।
তার সন্দেহ সত্য হয় এবং পরবর্তীতে পাশের আরেকটি স্কেলে ওজন করে ৩৮৩৫ কেজিই পাওয়া যায় যা দর্শনা স্কেলের সাথে মিল রয়েছে। তার এই প্রতারিত হবার বিষয়টি বাজার কমিটির কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ে প্রতিকার চেয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন মেসার্স রাজু ডিজিটাল ব্রিজ স্কেল এর বিরুদ্ধে। চিঠির মাধ্যমে উভয় পক্ষকে আজ অফিসে ডেকে শুনানি গ্রহণ করা হয় এবং শুনানি ও ওজনের বিভিন্ন কাগজপত্র দেখে অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
এর প্রেক্ষিতে ওজনে প্রতারণার দায়ে মেসার্স রাজু ডিজিটাল ব্রিজ স্কেল কর্তৃপক্ষকে ওজনে কারচুপির দায়ে ৫০,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়। স্কেল কর্তৃপক্ষ জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন এবং আইন অনুযায়ী জরিমানার ২৫% অর্থাৎ ১২,৫০০/- টাকা ভুক্তভোগী প্রান্তিক কৃষক মো: সাহিজুর রহমানকে প্রদান করা হয়।
অপর একটি অভিযোগে মেহেরপুর আমঝুপি এলাকার মো: জিয়াউর রহমান নামক এক ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গার কেদারগঞ্জ বাজারে আল্লারদান ই-বাইক সেন্টার থেকে জয়রাইডার নামক একটি ইলেকট্রিক বাইক ক্রয় করেন যার ব্যাটারির গ্যারান্টি ছিল ছয় মাস।
কিন্তু তিন মাসের মধ্যেই ব্যাটারি ফুলে গিয়ে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বাইক সেন্টারে কিছুদিন যোগাযোগ করে সুরাহা না পেয়ে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দায়ের করেন।
এক সপ্তাহ আগে অভিযোগের শুনানি গ্রহণ করে অভিযোগ সত্য হওয়ায় ই-বাইক সেন্টারকে এক সপ্তাহের মধ্যে একসেট নতুন ব্যাটারি প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশ অনুযায়ী ই-বাইক সেন্টার কর্তৃপক্ষ নতুন ব্যাটারি প্রদান করে। আজ গ্রাহকের কাছে চার পিছের একসেট নতুন ব্যাটারি হস্তান্তর করা হয়।

