ওমর ফারুক

সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরান হাসান, নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদী পৌর শহরের কাউরিয়াপাড়ার একটি মসজিদের সামনে সাজিম (১৪) নামে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি, দা, রামদা, চাপাতি লোহার পাইপ, রড সহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র সহ ঘাতক আসামি হাসান আহমেদ ওরফে রাব্বি, হিমেল ও খলিল নামে ৩জনকে আটক করেছে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে তথ্যটি নিশ্চিত করেন নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া।

তিনি জানান, নরসিংদী পৌর শহরের বাউলপাড়া এলাকায় নতুন লঞ্চঘাটে অবস্হিত স্পীডবোট ঘাটের ইজারা নিয়া দুই পক্ষের বিরোধ ছিল। উক্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার দুপুরে কাউরিয়াপাড়ার মসজিদের সামনে আসামীরা দা, ছুরি, রামদা, কিরিজ, চাপাতি, লাঠি সহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাজিমের বাবা আমির হোসেনের সামনে এলোপাথারী কুপিয়ে নাবালক সাজিম (১৪) কে হত্যা করে।

উক্ত ঘটনায় সাজিমের বাবা সহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বর আহত হন। ঘটনার সাথে জড়িত আব্দুল মতিন মিয়ার ছেলে হাসান আহমেদ ওরফে রাব্বি (৩৫), হালিম মিয়ার ছেলে হিমেল (২৯) ও মৃত সব্দর আলীর ছেলে খলিল (৬০) কে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালত রাব্বিকে দুইদিন ও অপর ২ জনকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পরে আসামীদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে বাকি আসামীদের গ্রেপ্তার ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসামীদের স্বীকারোক্তিতে এবং তাদের দেখানো মতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র গুলো উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ, গত ৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) দুপুরে স্পিডবোট ঘাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ মতিন মিয়া গংদের হামলায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র সাজিম কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ হামলায় সাজিমের বাবা আমির হোসেন, মামা রায়হান, তালহা ও জহিরুল সহ ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করে।

পরে নিহত সাজিমের বাবা আমির হোসেন বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় হাসান আহমেদ ওরফে রাব্বিকে প্রধান আসামি করে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।