সম্পাদক

ফিরোজ আলম, রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে  অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী, টিআর  ও  কাবিখা প্রকল্পের  মাস্টারোল ও অডিট আপত্তির নামে বাণিজ্যর অভিযোগ ওঠেছে অফিস সহায়ক ও প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। 

 জানা গেছে, রামগতি উপজেলায়  ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্রথম পর্যায়  দৈনিক শ্রমিক সংখ্যা ২ হাজার চারশ বারো জন। এর মধ্যে চরবাদাম, চরপোড়াগাছা, চরআলেকজান্ডার, চরআবদুল্লাহ, চরআলগী, চররমিজ ও বড়খেরী ইউনিয়নে একাজ  ইতিপূর্বে সম্পন্ন হয়েছে।  যার বরাদ্ধের পরিমাণ ৪৮ লাখ টাকা।  ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী দ্বিতীয় পর্যায় দৈনিক  শ্রমিকের সংখ্যা ছিলো ৩ হাজার বায়ান্ন জনের বিপরীতে  প্রাপ্ত বরাদ্ধ  চার কোটি আটাশি লাখ তিন হাজার দুইশ  টাকা। এর মধ্যে চরবাদাম, চরপোড়াগাছা, চরআলেকজান্ডার, চরআবদুল্লাহ, চরআলগী, চররমিজ, বড়খেরী ও  চরগাজী ইউনিয়নে একাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন। ওই কাজের বিপরীতে জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের  প্রজেক্ট কমিটি সভাপতি/সম্পাদক থেকে মাস্টাররোল ও অডিট আপত্তির নাম ভেঙ্গে   প্রকল্পপ্রতি ১০%  থেকে ১৫%  টাকা বিভিন্ন কৌশল ও অজুহাত দেখিয়ে  আদায় করেন অফিস সহকারী আবদুল হাকিম ও বড়কর্তা। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে  কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমরা যে বরাদ্ধ পাই; তার কাজও শতভাগ করতে হবে; আবার অফিস খরচও দিতে হবে; এমন  চাপ আমাদের ওপর দেয়া হয়।  মধ্য চর আবদুল্লাহ মসজিদ রোড সংষ্কারে দুই লক্ষ টাকার বিপরীতে বিশ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ রযেছে। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচীর আওতায়  এলাকাভিত্তিক ১ম কিস্তির  প্রাপ্ত বরাদ্ধকৃত নগদ অর্থ প্রকল্পের সংখ্যা ছত্রিশটি  প্রাপ্ত বাজেট  প্রায় আটচল্লিশ লাখ টাকা। 

২০২২-২৩ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচীর আওতায়  এলাকাভিত্তিক ১ম কিস্তির  প্রাপ্ত বরাদ্ধকৃত  খাদ্য শস্য প্রকল্পের সংখ্যা  চৌদ্দটি  প্রাপ্ত বাজেট ৬৩ মে.টন। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচীর আওতায় এলাকাভিত্তিক দ্বিতীয় কিস্তির প্রকল্পের সংখ্যা  বাইশটি  প্রাপ্তঅর্থ ৪৪ লাখ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা/চাল) কর্মসূচীর আওতায় এলাকাভিত্তিক দ্বিতীয় কিস্তির  প্রকল্পের সংখ্যা পাঁচটি    প্রাপ্তবাজেট ৩২ মে.টন চাল। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা/গম) কর্মসূচীর আওতায় এলাকাভিত্তিক দ্বিতীয় কিস্তির প্রকল্পের সংখ্যা  চৌদ্দটি প্রাপ্ত বাজেট ৬৩ মে.টন। এদিকে চরবাদাম, চরপোড়াগাছা, চরআলেকজান্ডার, চরআবদুল্লাহ, চরআলগী, চররমিজ, বড়খেরী চরগাজী ও  উপজেলা পরিষদে ৫৬ লাখ আট হাজার দুইশ সাতাত্তর টাকা বরাদ্ধ দেয়। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা/চাল) কর্মসূচীর আওতায় এলাকাভিত্তিক দ্বিতীয় পর্যায় 

 প্রকল্পের সংখ্যা নয়টি  প্রাপ্ত বাজেট ৩৭  মে.টন। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা/গম) কর্মসূচীর আওতায় এলাকাভিত্তিক দ্বিতীয় পর্যায়  প্রকল্পের সংখ্যা  দশটি; প্রাপ্ত বাজেট ৭৮ মে.টন। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো  রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচীর আওতায় এলাকাভিত্তিক দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের সংখ্যা চব্বিশটি; প্রাপ্তঅর্থ ২৪ লাখ টাকা। এদিকে চরবাদাম, চরপোড়াগাছা, চরআলেকজান্ডার, চরআবদুল্লাহ, চরআলগী, চররমিজ, বড়খেরী চরগাজীতে ৪৪ টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্ধ পায় ৪২  লাখ ৩০ হাজার টাকা। 

২০২২-২৩ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো  রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচীর আওতায় এলাকাভিত্তিক দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের সংখ্যা বিশটি; প্রাপ্তঅর্থ  প্রায় ২২ লাখ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) সাধারণ প্রথম পর্যায়  প্রকল্পের সংখ্য  নয়টি,  প্রাপ্ত বাজেট ৩৭ মে.টন। 

এদিকে  চরবাদাম, চরপোড়াগাছা, চরআলেকজান্ডার, চরআবদুল্লাহ, চররমিজ, বড়খেরী ও চরগাজী ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে চাপ্পান্ন লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া। 

এবিষয়ে রামগতি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলে তার মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। 

রামগতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম শাšুÍনু চৌধুরীর ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। 

জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান জানান, আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।