ওমর ফারুক

শাওন আহমেদ সা’দ, মাধবদী(নরসিংদী) প্রতিনিধি:

গত ২০ সেপ্টেম্বর মাধবদী সতী প্রসন্ন ইনস্টিটিউট এর ৮ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র মেঃ সিফাত হোসেন শুভ(১৫) এর হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় ইনস্টিটিউট সংলগ্ন রাস্তায়।

স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধি ও সিনিয়র শিক্ষক মোঃ জালাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে উক্ত মানববন্ধন এ বক্তব্য রাখেন সতী প্রসন্ন ইনস্টিটিউট এর ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ আবু দাউদ মিয়া, শিক্ষক মোঃ মনোয়ার হোসেন, মোসাঃ খালেদা আক্তার মুন্নি, মোঃ ইব্রাহীম মিয়া, এলাকাবাসী মোঃ আহসান উল্লাহ, মমোঃ আরাফাত রহমান, এমদাদ হোসেন, সিফাতের পিতা মোঃ সুন্দর আলী, ও তার মা ঝর্ণা বেগম।

এই সময় মাধবদী পৌরসভা হতে পোস্ট অফিস পর্যন্ত অবরোধ করে মানববন্ধন করা হয়। এতে সিফাতের সহপাটি, শিক্ষক, এলাকার নারী পুরুষ সহ প্রায় সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।

বক্তাগণ তাদের বক্তব্যে মোঃ সিফাত হোসেন শুভর হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান এবং মামলার অগ্রগতির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, জেলাপ্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বক্তাগণ আরো বলেন সিফাত হত্যার ব্যাপারে নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে।

সিফাতের বাবা সুন্দর আলী একজন গরীব কৃষক । সে সন্তান হারিয়ে ন্যায় বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। এসময় কেঁদে কেঁদে সন্তান হত্যার বিচার চান সিফাতের মা।

উল্লেখ্য গত ২১ জুন ২০২৩ বিকালে গৃহপালিত পশুর জন্য ঘাস কাটতে জজ ভূইয়া গ্রুপের খোলা মাঠে যান, বিকেল গড়িয়ে রাত হলেও ছেলে ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন বাবা, মা আশপাশে খুঁজতে থাকে।

ছেলেকে না পেয়ে জজ ভুইয়া গ্রুপের ভেতরে ভাড়ায় চালিত চায়না ব্যাটারি কারখানায় খোঁজ নিলে কারখানায় নিয়োজিত সিকিউরিটি গার্ড বাঁধা প্রধান করে। এতে করে এলাকাবাসীর সন্দেহ প্রবল হলে তারা বারবার তাগাদা দিয়ে ভেতরে ঢুকতে পারনি।

পরের দিন সকালে শিফট পরিবর্তন হলে গার্ড গেট খুলে দিলে এলাকাবাসী কারখানার ভিতরে প্রবেশ করে কারখানার ভেতর রক্তাক্ত সিফাতের লাশ উপর হয়ে পড়ে থাকতে দেখে।

তাখন তার সারা শরীরে জখমের চিহ্ন ছিলো। পরে ২৩ শে জুন ময়না তদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয়। পরে ২৫ জুন সিফাতের পিতা মোঃ সুন্দর আলী বাদী হয়ে জজ ভূইয়া গ্রুপের ভাড়াটিয়া প্রতিষ্ঠান চায়না ব্যাটারি কারখানার ৭ জন কে এজহার নামীয় আসামী ও অজ্ঞাতবামা আসামী করে দঃবিঃ ৩০২,২০১,৩৪এ মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৬। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় উপ পুলিশ পরিদর্শক ইফাত আহাম্মেদ কে।

মামালার ৩ মাস অতিবাহিত হলেও এর কোন অগ্রগতি না থাকায় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজ এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন।