ওমর ফারুক

অরবিন্দ পোদ্দার, নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি:

ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার শীতলপাড়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী সোহাগ হাওলাদার’র সংসার চলে রিক্সা চালিয়ে।

জন্মের পর টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়। অর্থের অভাবে করাতে পারেনি উপযুক্ত চিকিৎসা তার পা দুটোই অস্যর হয়ে যায়। তার পর থেকেই প্রতিবন্ধী হিসেবে ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করে বেড়ে ওঠে সোহাগ। প্রতিবন্ধী সোহাগ হাওলাদার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলপাড়া এলাকার মৃত গনি হাওলাদারের ছেলে।

বর্তমানে ঢাকায় রিক্সা চালিয়ে কোনমতে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে নিয়ে ৪ জনের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবারের ভরণ পোষণ যোগাতে করতে হচ্ছে অক্লান্ত পরিশ্রম। দুই হাতে ভর করে চলা সোহাগ হাওলাদার রিক্সা চালিয়ে যা উপার্জন করে তা দিয়ে বাসা ভাড়া ও সংসার কোনভাবে চলছে।

নলছিটি পৌরসভা থেকে ভাতা পেলেও বহু বছর ধরেও ভাতাটি বন্ধ রয়েছে। হতদরিদ্র সোহাগের বাড়িতে মাথা গোঁজার মতো একটি ঘর না থাকায় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

প্রতবন্ধী সোহাগ বলেন, আমার ছোটবেলায় টাইফয়েড হয়েছিল চিকিৎসা করাতে পারিনি এরপর থেকে এরকম হয়ে গেছি। বর্তমানে আমার দুটি সন্তান ও স্ত্রী রয়েছে। আমার বাড়িঘর কিছুই নাই।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় রিক্সা চালিয়ে কোন রকম বসবাস করতেছি। যেদিন রিক্সা চালাতে পারি না সেদিন সংসার চলে না। আমি এর আগে সরকারি সহয়তা পেতাম কিন্তু সেটিও অনেকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে আমার সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।

১, ২,৩, নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর খাদিজা পারভীন বলেন, সোহাগ হাওলাদার (৩৫) খুবই অসহায়। ওনি এর আগে ঢাকায় থাকতো বর্তমানে বাড়িতে এসেছে। তার থাকার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

এর আগে তিনি সরকারি ভাতা পেতো কি কারণে সেটি বন্ধ আছে তা আমার জানা নেই। তাই উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের কাছে নিয়ে এসেছি ভাতাটা চালু করার জন্য।

নলছিটি উপজেলা সমাজসেবা অফিসার বলেন, সোহাগ হাওলাদার এর আগে ভাতার আওতায় ছিলেন। ২০০১ সালে যখন এনআইসি করা হয় তখন তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। এখন আবার তার ভাতা চালু করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় যদি আনা যায় তাহলে কোন একটা উপকরণ দিয়ে তাকে স্বাবলম্বী করা যাবে।

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, সোহাগ হাওলাদারকে একটি আবেদন দিতে বলছি। তাকে সরকারি ভাবে সহয়তা করা হবে।