
অরবিন্দ পোদ্দার, নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি:
দিন চলে যায়, সময় হারিয়ে যায়, অতীতের অদৃশ্য গহ্বরে। যুগে যুগে পৃথিবীর একেক মহাদেশে গড়ে উঠেছে মানুষের ভিন্ন ভিন্ন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্প-সংস্কৃতি।
হাজার বছরের ঐতিহ্য বহনকারী মাটির তৈরি সামগ্রীর চাহিদা কমতে থাকায় প্রাচীনকাল থেকে বংশানুক্রমে গড়ে ওঠা গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।
কালের বির্বতনে ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প।
নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের তিমিরকাঠী গ্রাম। কুমারখালী বাজার সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী পাল বংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে এখন গুটি কয়েক পরিবার অনেক কষ্টে তাদের পূর্বপুরুষের এ মৃৎ শিল্পের পেশাকে ধরে রেখেছে।
প্রাতিষ্ঠানিক কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাল বংশের নারী পুরুষ শিল্পীরা হাতের নিপুন ছোঁয়ায় চাকা ও আধুনিক মেশিনের সাহায্যে মাটি দিয়ে মৃৎশিল্পের যাবতীয় সামগ্রী তৈরী করেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নলছিটি উপজেলার তিমিরকাঠী গ্রামে কুমারখালী বাজার সংলগ্ন পাল বংশের সেই জৌলুশ আগের মত আর নেই। অনেকের মতে এটি শুধু শিল্পই নয় বরং আবহমানকাল থেকে গ্রাম বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
মাটির নান্দনিক কারুকাজ আর বাহারী নকশার কারনে দেশে এর চাহিদা থাকলে ও উন্নত ডিজাইন আর আধুনিক প্লাষ্টিক ও সিলভারের পন্যের কাছে মার খাচ্ছে এক সময়ের জনপ্রিয় মৃৎশিল্পের সামগ্রী।
পাল বাড়ির আঙ্গিনায় সারি সারি ভাবে মাটি দিয়ে তৈরী পুতুল, কলশ, বাসন, হাড়ি, পাতিল, প্লেট, বাচ্চাদের খেলনা সামগ্রী তৈরীকরে রোদে শুকানোর জন্য রাখা হয়েছে।
এ পেশায় জড়িত থাকা পালবাড়ির বাবা দাদাদের পেশাকে যে গুটি কয়েকজন আঁকড়ে আছেন তাদের মধ্যে একজন হলেন প্রয়াত সূর্য পালের ছেলে সুধির পাল তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে পূর্ব পুরুষের ধারাবাহিকতায় আমি এ পেশায় জড়িত আছি।
আমাদের জীবিকার একমাএ অবলম্বন মৃৎশিল্প এখন আমাদের জীবনযাপনের ব্যয়ভার মেটাতে পারছি না। তাই এ পেশায় নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহ। তাছাড়া মাটির দাম ও আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে।
এক ট্রলার মাটি এখন ১৫ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হয়। আয় আর ব্যয়ের সাথে আর পেরে উঠছি না। জানি না এ পেশায় আর কতো দিন টিকে থাকতে পারবো।
বর্তমান বাজারে ক্ষতিকর দস্তা, এ্যালুমিনিয়াম, প্লাষ্টিক, মেলামাইন এর ব্যবহারের ফলে মানুষ এখন আর মাটির তৈরী জিনিসপত্র ব্যবহার করছে না। তিনি আরো বলেন, সরকার আমাদের উদ্যোক্তাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারী ঋন দিয়ে থাকে কিন্তু ব্যবসাই যদি না থাকে তাহলে ঋণ পরিশোধ করবো কিভাবে ।
তার চেয়ে সরকার যদি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সিলভার ও প্লাষ্টিকের তৈরী পন্য ব্যবহার বন্ধ করে দিতো তাহলে মৃৎশিল্পের সু-দিন আবার ফিরে আসতো। এছারাও দেশের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও মেলার মাধ্যমে তুলে ধরা হোক।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: নজরুল ইসলাম বলেন, সরকার ঐতিহ্যবাহী পেশা ও পণ্যগুলো রক্ষায় বদ্ধপরিকার। তাদের যদি কোন সহায়তার দরকার হয় সেটা অবশ্যই করা হবে।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.