ওমর ফারুক
বিজয় রতন কর, মিঠমইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
অষ্টগ্রামে কালনী কুশিয়ারা ও মেঘনার সংযোগস্থল থেকে বালু উত্তোলন চলছেই। এতে নদীর পশ্চিম তীরের ৫ হাজার একর ফসলি জমি ও পাউবোর বাঁধ হুমকির মুখে। এ ঘটনায় নদীতীরের ১০টি সেচ স্কিমের ম্যানেজার গত ১০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে অভিযোগের দু’সপ্তাহ পার হলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হযনি। তাঁরা স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের সহযোগিতায় বালু উত্তোলনকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অভিযোগকারীরা হলেন- হারিছ মিয়া, জিলু মিয়া, মিলন মিয়া, আল আমিন মিয়া, সুলতান মিয়া, মতিন ভুঁঁইয়া, আমির চান, জোলু মিয়া, ছলিম হাজি। তাঁরা জানান, এখানে বিএডিসির ৩টি স্কিম রয়েছে।
১ বছর ধরে দুটি ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে একটি চক্র। গত বছর স্কিমের ম্যানেজাররা ইউএনওর কাছে অভিযোগ করলেও প্রশাসনের নীরবতার কারণে এখন দিনে-রাতে বালু তোলা হচ্ছে।
এ বছর বন্যার সময়েও বালু তোলা থামেনি। নদীর পশ্চিম তীরে পাউবোর ৮ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধের মধ্যে ২ কিলোমিটার ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। পানি কমে যাওয়ার পর দেখা যায়, মিঠামইন উপজেলার অংশে নদীর পশ্চিম তীর সংলগ্ন ৫ শতাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একদিকে ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে; অন্যদিকে নদীতে চর জেগে উঠছে।
এ অবস্থা চলতে থাকলে শুকনো মৌসুমের আগেই ১০টি স্কিমের আওতায় আরও ৫ হাজার একর জমি হুমকির মুখে পড়বে। অভিযোগকারী হারিছের অভিযোগ, প্রশাসন বালু তোলা বন্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রশাসনের সঙ্গে বালু উত্তোলনকারীদের যোগাযোগ রয়েছে।
কৃষকদের নিয়ে বালু তোলায় বাধা দিলে ড্রেজারে থাকা সোহেল মিয়া বলেন, ‘প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা প্রশাসনকে দিতে হয়।’আব্দুল্লাহপুর গ্রামের কয়েক বাসিন্দার ভাষ্য, এসব ড্রেজারে বালু তোলার পেছনে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা তাদের ব্যয় হয়।
টাকাটা বিভিন্ন জায়গায় চলে যায়। শুধু ইউএনও আসার খবর দেওয়ার জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা ইউএনও অফিসে দিতে হয়। ইউএনও আসার খবর পেলেই ড্রেজার নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। প্রশাসনের একটি অংশ গোপনে তাদের সহযোগিতা করছে।
বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত রয়েছেন, ফকির মেম্বার, সোহেল, সরাজ, বিল্লাল খা, কাইয়ুম খা, উমর আলী, ইকবাল সরকার, দুলাল মিয়া, তবারক ও বাচ্চু মিয়া। উপজেলার পাউবো কর্মকর্তা (এসও) মো. সেলিম জানান, বাল তোলার বিষয়টি মৌখিকভাবে ইউএনওকে জানিয়েছেন।
পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. হোসাইন বলেন, এ ব্যাপারে জাতীয় নদী রক্ষা কমিটির কাছে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। এসব বালু বিক্রির সঙ্গে যারা জড়িত তারা মাফিয়া।
এ ব্যাপারে পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বালু তোলার ড্রেজার এমবি সজিব রুহান ড্রেজিং প্রকল্পের নেপথ্যে রয়েছে নুরুল ইসলাম সরকার ও তার সহযোগী শামছুদ্দিন মিয়া। নুরুল ইসলাম সরকারের ফোনে একাধিবার কল করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে তার ড্রেজারের ম্যানেজার মো. সোহেল দাবি করেন, তিনি ড্রেজারের ম্যানেজার নন। বালু বিক্রির টাকা জমা রাখেন তিনি। পরে সেই টাকা সামছু মিয়ার কাছে দিয়ে দেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় বালু তোলার অভিযোগ অস্বীকার করে অষ্টগ্রামের ইউএনও ও সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত এডিসি মো. হারুন অর রশিদ দাবি করেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েও ড্রেজার পাননি তিনি।
কেউ বালু তুললে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ইউএনও ব্যবস্থা না নিলে তাঁরাই আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

