ওমর ফারুক
আব্দুল খালেক, রৌমারি (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
রৌমারীতে পারিবারিক কলহের জেরধরে সুলতানা (১৯) নামের এক গৃহবধু নির্যাতনের শিকার হয়েমৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় আনে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আবু হানিফকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার সকাল ৮টার দিকে রৌমারী উপজেলার ইছাকুড়ি ভিটাপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এঘটনায় নিহতের বাবা ছলিম উদ্দিন বাদী হয়ে রৌমারীথানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ ইছাকুড়ি গ্রামের ছলিম উদ্দিনের মেয়েসুলতানার সাথে একই গ্রামের ইছাকুড়ি ভিটাবাড়ি গ্রামের আব্দুস শহীদের ছেলে আবুহানিফের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে পারিবারিক ভাকে তাদের বিয়ে হয় ৩ বছরআগে।
তাদের ঘরে শুভ (১) নামের এক ছেলে সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক কলহের জেরধরে সুলতানাকে শাররিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতো তার স্বামী আবু হানিফসহ পরিবারের লোকজনা। ঘটনার আগের দিন শনিবার সকালে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সুলতানাকে বেধরক মারপিট করে তার স্বামী।
নিযার্তনের খবর পেয়ে মেয়ের বাবা ছলিমউদ্দিন মেয়েকে বাড়িতে নেওয়ার জন্য জামাই বাড়িতে যায়। স্বামীর পরিবারের লোকজন মেয়েকে ছেড়ে না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। পরদিন রবিবার সকালে তাকে আবারো নির্যাতন করলে এক পর্যায়েসুলতানা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তার স্বজনরা তাকে রৌমারী হাসপাতালে ভর্তি করে।
রৌমারী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুলতানাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে নেয়ার পথে সুলতানা মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ছলিম উদ্দিন বাদী হয়ে রৌমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহতের বাবা ছলিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ের হত্যাকান্ডে যারা জড়িত তাদের আমি দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির চাই।
রৌমারী থানার (ওসি তদন্ত) মুশাহেদ হোসেন বলেন, নিহতের স্বামী আবু হানিফকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হবে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

