সম্পাদক
মোঃ আব্দুল খালেক, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
পারিবারিক কলহ ও পরকিয়ার জের ধরে সুলতানা (১৯) নামের এক গৃহবধূকে স্বামীর নির্যাতনে মৃত্যুর প্রতিবাদে আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দেয়ার দাবীতে নিহতের পরিবার একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সোমবার ১৬ অক্টোবর বেলা ১২ টায় উপজেলা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ ইছাকুড়ি গ্রামে নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিহতের পরিবার লিখিত অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে পারিবারিক কলহ ও বড় ভাবি আখিঁ বেগমের সাথে পরকিয়ার জেরে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে আসছে স্বামী আবু হানিফ ও তার পরিবার। ইতি পূর্বে একাধিক বার শালিসী বৈঠক করে সমাধান করা হলেও কিছু দিন পর আবার চলে দিন রাত নির্যাতন। এমন অবস্থা চলতে থাকলে গত ৬ অক্টোবর বিকালে ও ৭ অক্টোবর সকালে নির্যাতনের ফলে অসুস্থ হয়ে পরে সুলতানা। কিছুক্ষন পর মৃত্যু ভেবে গলায় ফঁাসির দরি লাগিয়ে ঘরে ধরনার সাথে লটকিয়ে রেখে এলাকার লোকজনদের খবর দেন স্বামীর পরিবার। ততক্ষণে সুলতানা মৃত্যুর দার প্রান্তে। পিতার পরিবার জানেন না। পরে নিজেরাই ফঁাসির রশি খুলে সুলতানাকে ময়ময়নসিংহ ম্যাডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। চিকিৎসারত অবস্থায় ডাক্তার মৃত্যু ঘোষনা করেন সুলতানার।
পরে সুলতানার পিতা ছলিম উদ্দিন জানতে পারলে নিজে বাদী হয়ে রৌমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের পরে অভিযুক্ত আবু হানিফকে গ্রেফতার করলেও মামলার বাকি আসামীদের এখন গ্রেফতার করা হয়নি। স্বামীর এই পাশবিক নির্যাতনের ফলে সুলতানার মৃত্যু হয়েছে। আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনসহ সরকারের কাছে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
উলেক্ষ্য যে, ৭ অক্টোবর শনিবার সকালে স্বামী স্ত্রীর মাঝে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সুলতানাকে বেধরক শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেন তার স্বামী। মেয়ের নিযার্তনের খবর পেয়ে পিতা ছলিম উদ্দিন মেয়েকে আনার জন্য জামাই বাড়িতে গেলে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে তারা। এক পর্যায়ে মেয়েকে না নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। পরের দিন সকালে আবারো নির্যাতন করলে স্বজনরা তাকে রৌমারী হাসপাতালে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক সুলতানাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে রিফাড করেন। সেখানে কিছুক্ষণ নেয়ার পর মৃত্যুর কোলে টোলে পড়েন সুলতানা। এ ঘটনায় নিহতের পিতা ছলিম উদ্দিন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

