
বিজয় কর রতন, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
পাঁচ বছর পোশাক কারখানায় কাজ করে বহু কষ্টে কিছু টাকা জমিয়েছিলেন রাসেল। কিন্তু তাতেও সৌদি যাবার খরচ পুরোটা হচ্ছিল না।
ছেলের কষ্ট দেখে বাবা তাই নিজের গরু বিক্রি করে টাকাটা ছেলের হাতে তুলে দেন। মনকে প্রবোধ দিয়েছিলেন, ছেলে বিদেশে গিয়ে টাকা পাঠালে গরুসহ আরও কত কিছু হবে। বিদেশ যাওয়ার সময়ও ঘনিয়ে এল। তাই তো একদিকে চোখে সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন, আরেকদিকে বাবা মা, প্রিয় দেশ ছেড়ে যাওয়ার কষ্টে চোখে জল জমেছিল।
আজ মঙ্গলবার ফ্লাইট ধরার কথা। তাই সোমবার ট্রেনে উঠে ঢাকায় রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রেন দুর্ঘটনায় রাসেলের দেহের সাথে সাথে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল পুরো পরিবারের স্বপ্ন। নিহত রাসেল (২২) মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের ভরা গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান হাবিবের ছেলে।
রাসেলের চাচা মো. জাকারিয়া ভূইয়া এ প্রতিবেদককে জানান, হাবিবের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে রাসেল সবার বড়। পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশোনার পর জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে পাড়ি জমান।
২০১৮ সালে রামপুরার একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন রাসেল। চাকরির টাকা জমিয়ে আর গরু বিক্রি করে সৌদি আরব যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০ টায় তার ফ্লাইট ছিল। এজন্য বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল এগারোরসিন্দর গোধুলী ট্রেনে। ভৈরবের জগন্নাথপুর এলাকায় ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে প্রাণ হারান রাসেল।
বাকরুদ্ধ কন্ঠে জাকারিয়া বলেন, ‘কথা ছিল ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর, এখন ছেলের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে বাবাকে। এ যে কত বড় কষ্ট, কেউ বুঝবে না। পরিবারটি দারিদ্রের কষ্ট সহ্য করেছে এতদিন। এখন তার সাথে যুক্ত হলো সন্তান হারানোর কষ্ট।
কেমন করে বাঁচবে এই বাবা-মা।’ অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন থানার গোপদিঘী ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের চান মিয়ার ছেলে আদনান মোঃ সাইমন সেও ট্রেন দূর্ঘটনায় মারা যায়।
সে নরসিংদি বারইছা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে অনার্স ২য় বর্ষে পড়াশুনা করছিল। তারা ২ ভাই আর ২ বোন, সাইমন পরিবারের বড় ছেলে। তার বাড়িতেও শোকের মাতম।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.