ওমর ফারুক

সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরান হাসান, নরসিংদী প্রতিনিধি:


ক্রমাগত দালাল চক্রের উৎপাত বেড়েই চলছে নরসিংদীর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে, ফলে প্রতিনিয়ত হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছে সেবা নিতে আসা বিদেশ গামীরা। আর এসকল কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে উক্ত প্রতিষ্ঠানের-ই অফিস সহকারী হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে।

রবিবার (০৫ নভেম্বর) সকালে এক ভুক্তভোগীর ফোন কল পেয়ে দৈনিক বাংলা দর্পণ প্রত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গেলে তার ক্যামেরায় উঠে আসে দালাল চক্রের বিভিন্ন কার্যকালাপ।

ছবিতে দেখতে পাওয়া ব্যক্তি এই অফিসের কেও না হয়েও বেশকিছু মানুষের থেকে নিয়ে নিচ্ছে তাদের কাগজপত্র আর এসকল কাগজ হাতে নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে চাচ্ছেন ২৫শ থেকে ৩০০০ টাকা, এর বিনিময়ে কোনো ঝামেলা কিংবা সিরিয়াল ছাড়াই করিয়ে দিবেন তাদের কাঙ্ক্ষিত কাজ।

এরকমই একজন সেবাগ্রহীতার থেকে টাকা নেওয়ার সময় হাতে নাতে ধরা পড়ে এই হাবিবুর। এর পরেই বের হয়ে আসে বিভিন্ন তথ্য।

আটক হাবিবুর রহমান সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের কালাই গোবিন্দপুরের বাসিন্দা, সে বিগত ১ থেকে দেড় বৎসর এই পেশায় জড়িত, এর আগে গত ৫-৬ মাস পূর্বেও তাকে একই ঘটনায় নেওয়া হয় জেল হাজতে, তারপরও কমেনি তার দৌড়াত্ব এবং তাকে অফিসের ভিতর থেকে সহায়তা দেন এই অফিসের-ই অফিস সহকারী হারুন।

এই অফিসকে কেন্দ্র করে সক্রিয় এমনই আরও অসংখ্য দালাল সদস্য, সবাই প্রতিনিয়ত ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা করে অফিস সহকারীকে দেওয়ার মাধ্যমে এসকল কাজ করিয়ে নেন বলে জানান হাবিবুর।

এসকল তথ্য দেওয়ার আগে অবশ্য পালিয়ে যেতে চায় দালাল চক্রের এই সদস্য, পরে জনগণের কাছে পূনরায় ধরা পরে সে।

পরে নরসিংদী মডেল থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ তাকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আবারও ১৫দিনের জেলে পাঠায়।

এবিষয়ে নরসিংদী জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মো: এনামুল হক জানান, সেবা গ্রহীতাদের সকল লেনদেন হয়ে থাকে ব্যাংকের মাধ্যমে, এর বাহিরে এখানে কারও সাথে কোনো লেনদেনের সুযোগ নেই। অফিসের বাহিরে এরকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে, আমরা কিছুদিন পর পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করি তারপরও কমছে না তাদের এসকল কার্যক্রম। সাধারণ মানুষদের সচেতন থাকার আহবান তার।

তবে এর সাথে অফিসের কেও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।