ওমর ফারুক

নুরুল কবির, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

ওমানপ্রবাসী নারায়ণ দাশের পরিবারে আর কেউই রইল না। স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং দুই ছেলেকে হারিয়ে তিনি এখন পাগলপ্রায়। ঘটনার খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উৎসুক জনতা জোয়ারা ইউনিয়নের ধোপাপাড়ায় ভিড় জমিয়েছেন। দুর্ঘটনার শিকার পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছেন তারা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়ির পাশেই একটি লন্ড্রির দোকান করতেন নারায়ণ দাশ। খরচ বেড়ে যাওয়ায় ওই দোকান দিয়ে আর সংসার চলছিল না।

তাই দেড় বছর আগে বাড়তি আয়ের আশায় পরিবার ছেড়ে পাড়ি জমান ওমানে। আত্মীয়স্বজন এবং পাড়া-প্রতিবেশী থেকে ঋণ নিয়ে ভিসা এবং টিকিটের টাকা জোগাড় করেছিলেন তিনি। 

এদিকে ঘটনার খবর শোনার পর থেকে আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ মোহাম্মদপুর হিন্দুবাড়ির ধোপাপাড়ায় এসেছে। পুরো পাড়ায় চলছে শোকের মাতম। চন্দনাইশের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘একটি পরিবার মুহূর্তের মধ্যে নাই হয়ে গেল।

তা ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে। ছেলেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে তিনি ওমানে পাড়ি জমিয়েছেন। কিন্তু সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এখন নারায়ণ কী নিয়ে বাঁচবেন ওপরওয়ালাই ভালো জানেন।’ 

স্থানীয় জোয়ারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিন আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নারায়ণ ছাড়া ওই পরিবারের আর কেউ বেঁচে রইল না। এক দুর্ঘটনা তার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। তার পরিবারের সব সদস্যের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি টিকিট কেটে দেশে রওনা দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের চারিয়া এলাকায় একটি বাস ও একটি সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে সিএনজি অটোরিকশায় বসা শিশুসহ ১০ জন যাত্রীর মধ্যে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। নিহতরা সবাই নারায়ণ দাশের পরিবারের সদস্য।