ওমর ফারুক
বিজয় কর রতন, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কোনো পরিবার খাবারে অভাবে আছেন এমন খবর শুনার সঙ্গে সঙ্গে ছুটে চলে যান তারা।
কোন গর্ভবতী মায়ের রক্তের প্রয়োজন এমন কোন সংবাদ পেলে সাথে সাথে তাদের জন্য রক্ত দিয়ে হাওর অধ্যুষিত অষ্টগ্রাম উপজেলা থেকে পাশ্ববর্তী উপজেলা,জেলা শহর এমনকি রাজধানীর উদ্দেশ্য কখনো দিনের বেলায়, কখনো সন্ধ্যায় কখনো আবার গভীর রাতেই কখনো মোটরসাইকেল কখনো নৌকায় করে ছুটে চলে তারা রক্ত দিতে।
কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত অষ্টগ্রাম উপজেলার অষ্টগ্রাম ব্লাড ব্যাংক ও অষ্টগ্রাম দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থা এই দুটি সামাজিক সংগঠন অসহায় মানুষের পাশে কখনো সেচ্ছায় রক্তদান কখনো অসহায় দরিদ্র মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করে প্রসংশা কুড়িয়েছেন অষ্টগ্রাম উপজেলা এবং পাশ্ববর্তী উপজেলার সকল মানুষের কাছে।
জানা যায়,কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অধ্যুষিত অষ্টগ্রাম,ইটনা,মিঠামইন এক সময় যোগাযোগ মাধ্যমে হিসেবে নৌকা ছাড়া আর কোন যান বাহন ছিল না আর উপজেলা সরকারি হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থাও ছিল করুন।
সেখান থেকে কোন রোগীকে জেলা হাসপাতালে রেফার্ড করলে সময় লাগতো ৪-৫ ঘন্টা। কখনো রাস্তায় রোগীর মারা যাওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলেও চিকিৎসা ব্যবস্থা তেমন উন্নতি ঘটেনি। বিশেষ করে গ্রামের গৃহ বধূ বা গর্ভবতী মায়ের চিকিৎসা জন্য এখনো প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয়।
এই সময় যদি রক্তে প্রয়োজন হয় তাহলে তো বিলম্বনার শেষ নেই। গত ২-৩ বছর ধরে সেচ্ছায় রক্ত দিয়ে আসছে অষ্টগ্রাম ব্লাড ব্যাংক নামের একটি সামাজিক ও মানবিক সংগঠন। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, এই পর্যন্ত তারা আড়াই হাজারেরও বেশি লোকজনদের কে রক্ত দিয়েছে।
ওরা কেবল রক্তে দিতে উপজেলা বা জেলা শহরে সীমাবদ্ধ না রক্তের প্রয়োজনে তারা ছুটে যায় হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণ বাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ,সিলেট এমন কি রাজধানীর ঢাকাতেও। কথা হয় অষ্টগ্রাম ব্লাড ব্যাংক এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো: জাকির হোসেন আশরাফী সঙ্গে, তিনি জানান,১০১৯ সালের দিকে শুরু করে এসব কার্যক্রম শুরু করেছিল তবে এত বড়সড় ছিল না পরবর্তীতে ২০২১ সালে এই মানবিক সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকতা মাধ্যমে শুরু করেন।
বর্তমানে আড়াই হাজার লোকজনদের কে এই সংগঠনের মাধ্যমে রক্ত দিতে পেরেছেন এবং বর্তমানে সেচ্ছায় রক্তদান দিয়ে পাঁচ শত সেচ্ছাসেবী রয়েছেন যখন কারো রক্তের প্রয়োজন হয় তখন সেই জায়গায় সেচ্ছাসেবীদের পাঠিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িনোর এবং চেষ্টা করেন তারা বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়া তাদের আরেকটি সামাজিক সংগঠন রয়েছে “অষ্টগ্রাম দারিদ্র্য বিমোচক সংস্থা “নামের সংগঠনটিতে রয়েছে ২৫০জন সেচ্ছাসেবী তারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। কখনো খাবার, কখনো শীতবস্ত্র বিতরণ কখনো আবার অসহায় রোগীদের কে সাহায্য তুলে দেন বলে জানান তারা।
এবিষয়ে কথা হলে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাক আহমেদ কমল জানান, হাওরে এমন মানবিক সংগঠনের আর কোন উপজেলা নাই। এই দুটি সামাজিক এবং মানবিক সংগঠন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের কাছে প্রসংশা পাচ্ছে এই মানবিক সংগঠনের পাশে সবাই থাকা দরকার।

