সম্পাদক
নিউজ ডেস্ক:
ডলার সংকটের কারণে ছোট আমদানিকারকদের এলসি খুলতে রাজি হচ্ছে না ব্যাংকগুলো ৷ ছোট ছোট আমদানিকারকেরা তাদের ব্যবসা নিয়ে বিপাকে আছেন, কেউবা ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন৷ আবার কেউ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বাইরে থেকে উচ্চ মূল্যে ডলার কিনছেন আমদানির জন্য এলসি খুলতে৷ আবার বড় ব্যবসায়ীরাও প্রয়োজনীয় ডলার কিনতে পারছেন না৷ ফলে আমদানি করা পণ্যের দাম কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না৷
ঢাকার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. বশির উদ্দিন বলেন, ‘‘আমরা এখন আর এলসি খুলতে পারছি না৷ মৌলভীবাজারের অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা সরসরি ভোগ্যপণ্য আমদানি করেন৷ কিন্তু তাদের আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে৷ ব্যাংক আমাদের আর ডলার দিচ্ছে না৷ ডলার সংকটের কারণে ব্যবসা এখন মনোপলি হয়ে গেছে৷ বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের হাতে চলে গেছে আমদানি ব্যবসা৷’’
তিনি জানান, ‘‘তারপরও আমাদের ব্যবসায়ীরা ২৫-৩০ হাজার ডলার ম্যানেজ করে ছোট ছোট চালানে আমদানি করে৷ সবাই মিলে আমরা এখন এইভাবে কম কম আমদানি করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখছি৷ এক লাখ ডলারের কছাকাছি হলেই আমরা আর আমদানি করতে পারি না৷ গত এক বছরে ব্যাংক থেকে আমি কোনো এলসি খুলতে পারি নাই৷’’
এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক মো. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘ডলার সংকটের কারণে যারা ছোট ছোট আমদানিকারক তাদের অনেকের ব্যবসাই বন্ধ হয়ে গেছে৷ তারা ব্যাংক থেকে ডলার পাচ্ছেন না৷ যারা আমদানি করছেন তারা বাইরে থেকে চড়া দামে ডলার কিনে আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে৷ ফলে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়ছে৷বড় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকেরা ব্যাংক থেকে ডলার পাচ্ছেন৷ কারণ তাদের তো নিজেদেরই ব্যাংক আছে৷ তারা ডলার ম্যানেজ করতে পারছেন৷ তবে তাও যে চাহিদা মতো ডলার তারা পাচ্ছেন তা মনে হয় না৷’’
বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম কিছুটা কমালেও তার তেমন প্রভাব নেই খোলা বাজারে৷ আর ডলারের দাম কিছুটা কমলেও ব্যবসায়ী বলছেন, ডলার তো পেতে হবে৷ ডলার না পেলে ডলার দাম কমলেই বা কী?
দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২১টি ব্যাংক এখন রীতিমতো ডলার সংকটে ভুগছে৷ কোনো কোনো ব্যাংকে ডলার নেই৷ ডলারের পাশাপাশি টাকার সংকটেও পড়ছে ব্যাংকগুলো ৷ গত বুধবার ব্যাংকগুলোর তারল্য-চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এক দিনেই কয়েকটি ব্যাংককে ১৭ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ধার দেয়৷
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) পণ্য আমদানিতে এলসি খোলা কমেছে ১১.২২ শতাংশ ৷ এই চার মাসে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে মোট দুই হাজার ১৮২ কোটি ডলারের৷ যেখানে গত অর্থবছরের একই সময় এলসি খোলা হয়েছিল প্রায় দুই হাজার ৪৬৬ কোটি ডলারের৷ এ সময় ব্যাংকগুলোর এলসি নিষ্পত্তিও কমেছে ২৪ শতাংশের বেশি৷ ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ব্যাংকগুলো এলসি নিষ্পত্তি করেছিল দুই হাজার ৮৯৪ কোটি ডলারের৷ সেখান থেকে কমে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে তা নেমে এসেছে দুই হাজার ১৯৭ কোটি ডলারে৷
এদিকে ডলারের প্রধান উৎস রপ্তানি এবং রেমিট্যান্সেও নেতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছে৷ রিজার্ভ অব্যাহতভাবে কমছে৷ গত অক্টোবর মাসে ৩.৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা ২৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন৷ আগের বছরের একই মাসে মোট ৪.৩৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল৷
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ আরো কমে ১৯.৪০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে৷ তবে দায়হীন বা প্রকৃত রিজার্ভ ১৬ বিলিয়ন ডলার৷

