ওমর ফারুক

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন আমদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দুই নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

যাদের বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন আমদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য পারভীন বেগম ও ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য আমেনা বেগম।

সরজমিনে গিয়ে জানাযায় ইউনিয়নের বোনাইদ গ্রামের ভুক্তভোগী ফারজানার কাছ থেকে গর্ভকালীন ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে পাঁচ হাজার টাকা নেন ইউপি সদস্য পারভীন বেগম।

ভুক্তভোগী ফারজানা জানান, দিনমজুর স্বামীর কষ্টে উপার্জন করা টাকা থেকে প্রথমে তিন হাজার টাকা দেই পারভীন মেম্বারনীকে এর কিছু দিন পর পারভীন মেম্বারনী আবারও এসে দুই হাজার টাকা দাবী করেন এবং আরো দুই হাজার টাকা না দিলে গর্ভকালীন ভাতা পাবোনা বলে জানায় তারপর পারভীন মেম্বারনীকে আরো দুই হাজার টাকা দেই সর্বমোট পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার পরেও আমি কোনো ভাতা পাইনি।

পারভীন মেম্বারনী একটি জন্ম নিবন্ধনে স্বাক্ষর করলেও বিনিময়ে এক হাজার টাকা নেন এমনও অসংখ্য ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান ইউপি সদস্য ফারুক।

এদিকে আরেক ইউপি সদস্য আমেনা বেগমের বিরুদ্ধেও রয়েছে বয়স্ক ভাতা, জন্ম নিবন্ধন ও প্রতিবন্ধী ভাতার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। আমদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা জানান, ওয়ারিশ সনদ পেতে স্বাক্ষর নিতে এক হাজার টাকা দিতে হয়েছে ইউপি সদস্য আমেনা বেগমকে । একটি প্রত্যায়নপত্র নিতে গিয়েও এই নারী ইউপি সদস্যের হয়রানির শিকার হয়েছেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি।

আমদিয়া বাজারের মিষ্টির দোকানী নাইম জানান, তার স্ত্রীর গর্ভকালীন ভাতা পায়িয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নেন ইউপি সদস্য আমেনা বেগম। এই ইউপি সদস্য আমেনা বেগম মাথরা গ্রামের মানিক মিয়ার বয়স্ক ভাতার টাকা থেকে দুই হাজার টাকা রেখে দিয়েছিলেন পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে মানিক মিয়ার কাছ থেকে রেখে দেওয়া টাকা ফেরত দেন আমেনা বেগম।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য পারভীন বেগম আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,’আমি টাকা পয়সা খাওয়ার জন্য মেম্বার হয়নি’। অপর ইউপি সদস্য আমেনা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে তার ফোনে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ ইবনে রহিজ মিঠু বলেন অভিযোগ সত্য হলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে কথা বলতে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও এর সরকারি ফোন নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।