ওমর ফারুক
এইচ এম হাছনাইন, তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি:
“কওমীয়ান ইসলামিক সাইবার ফোর্স’ (সংক্ষেপে QICF) বর্তমানে ব্যতিক্রমধর্মী ও স্বতন্ত্র সাইবার এক্সপার্টদের একটি টিম।
২০২২ সাল থেকে টিমটির যাত্রা শুরু হয়। এই অল্প দুই-তিন বছরে বহু মানুষের মনে জায়গা করে নেয় টিমটি।
টিমটির মূল লক্ষ্য হল, সাধারণ জনগণ; বিশেষ করে মাদ্রাসার ছাত্র ও দ্বীনদার মুসলমানদের মাঝে সাইবার সচেতনতা গড়ে তোলা, এবং ভার্চুয়ালে নাস্তিক ও ইসলাম বিরোধী উগ্রবাদী দমন করা।
“We Love Our Islam, We Fight For Islam.” এবং “আর কিছু থাক না থাক এদেশে ইসলাম থাকবেই! সব কিছু বদলে যাক এদেশে ইসলাম থাকবেই।” এ দুটি স্লোগান কে সামনে রেখে সোস্যাল মিডিয়ায় ইসলাম বিদ্বেষী ও অশ্লীলতার বিরুদ্ধে এগিয়ে যাচ্ছে কওমীয়ান ইসলামিক সাইবার ফোর্স।
কওমীয়ান ইসলামিক সাইবার ফোর্স এর পরিচালক বলেন ” আসলে আমি যতটুকুই জানি ততটুকু দিয়েই সৃষ্টির সেবায় নিয়োজিত থাকার চেষ্টা করি। মূলত ছোট বেলা থেকেই আমার টেকনোলজি বিষয়ে জানার আগ্রহ ছিল অনেক। সে সূত্র ধরেই এই পথে আসা।
আর তাছাড়া আমি যেন উদ্দেশ্যহীন গুনাহে লিপ্ত কিছু মানুষকে মঙ্গলজনক একটি সঠিক পথের দিশা দিতে পারি, এবং নিজেও যেন অনলাইন জগতের সময়টা ফিল্ম, অবৈধ সম্পর্ক, এবং নাচ-গানের মত নাজায়েয কাজে জড়িয়ে না পড়ি, বরং নিত্য নতুন কিছু শিখাতে নিজেকে ব্যস্ত করে রাখি; এসবও ছিল কারণের মধ্যে থেকে অন্যতম।”
তিনি আরো বলেন, “মানুষ গুনাহে লিপ্ত হওয়ার মূল কারণ হল অবসরতা ও লক্ষ্যহীনতা’! কথায় আছে যে “অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আড্ডা খানা”। মানুষ যখন অবসর থাকে তখনই শয়তান তাদের মনের মাঝে আজে বাজে চিন্তা ঠুকিয়ে দেয়। তাই এর থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হল নিজেকে পছন্দসই হালাল ও উপকারী যেকোন কাজে ব্যস্ত রাখা। এবং সেটার প্রতি প্রবল আগ্রহী ও লোভী হওয়া। যেন উক্ত বিষয়ে বড় একটা কিছু হওয়ার স্বপ্ন থাকে।” এই মতাদর্শ অনুযায়ী তিনি এই যাত্রা শুরু করেছেন।
সম্প্রতি বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ “মুফতি রিজওয়ান রফিকি সাহেব” এর একটি পেজ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন টিমটির মহা পরিচালক “মুফতি রহমাতুল্লাহ বুরহান জামালী ” প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমার জ্ঞানের মাধ্যমে ইসলামিক স্কলারদেরকে সহযোগিতা করতে পারছি। আমি মনে করি এটাই আমার সফলতা। “
টিমটির সহকারী পরিচালক শাহিন আহমেদ জানান, “আমরা আমাদের ব্যক্তি জীবনের কাজের পাশাপাশি সময়-সুযোগে জনগনকে সাইবার নিরাপাত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করি। তবে আমাদের সেবা প্রদান, কিছু শর্ত সাপেক্ষে হয়ে থাকে। যেমন কোন গরীব অসহায়কে খাদ্য-সামগ্রী দেওয়া, বা মসজিদ মাদরাসায় দান সদকাহ করা ইত্যাদি।
তারা বিকল্প হিসেবে গ্রাহকদের জন্য “QICF Poor Fund” তৈরি করেছেন। যাতে গ্রাহকের স্বল্প টাকা জমা দেওয়ার অপশনও থাকে। যা কর্তৃপক্ষের অধীনে গরীবদের খাতে খরচ করা হয়ে থাকে। “
টিমটির প্রশিক্ষক আব্দুর রহমান ও মাহদী হাসান মৌলভী জানান: “আমরা মহৎ ও বড় একটি স্বপ্ন নিয়ে এই পথ চলতে শুরু করেছি। আমাদের টার্গেট সকল জনগনের মাঝে সাইবার সচেতনতা গড়ে তোলা।
আমাদের কার্যক্রম যদিও আপাতত প্রাথমিক পর্যায়ে চলছে। তবে ভালো সাপোর্ট পেলে আরো এডভান্সে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। এবং পরিস্থিতি ও সুযোগ মিললে প্রয়োজনে অফলাইনেও আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখব। ইনশাল্লাহ। “
ইতোমধ্যে জানা গিয়েছে, টিমটি অনলাইনে তাদের নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট প্রকাশ করেছে। অতি শিঘ্রই প্লে স্টোরেও এ্যাপ হিসেবে প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছেন টিমটির মহা পরিচালক রহমাতুল্লাহ বুরহান।
ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের মাঝেও সাইবার সচেতনতা গড়তে টিমটির পদক্ষেপ চোখে পড়ার মত। মেয়েদের জন্য রয়েছে সম্পূর্ণ আলাদা মেয়ে ট্রেইনার দ্বারা পরিচালিত স্বতন্ত্র ব্যবস্থা।
টিমটির সদস্যবৃন্দরা কখনো মিম পোস্ট, কখনো ভিডিও এর মাধ্যমে জনগনের মাঝে সচেতনতা গড়ে তুলতে চেষ্টা করছেন। প্রতিষ্ঠার প্রায় ১ বছরের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের প্ল্যাটফর্মটিতে প্রায় ১হাজার ৮০০ ফলোয়ার সংযুক্ত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সদস্যরা জানান, “আমরা সত্যিই অনেক আনন্দিত যে ইসলামিক মনা একজন আলেম এই পথের রাহবার, যা সত্যিই খুব দুর্লভ। তিনি আমাদেরকে শত ব্যস্ততার মাঝেও মৌলিক দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
আর আমরা তদানুযায়ী কাজ করে এই টিমটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মেহনত করছি। ভবিষ্যতে আমাদেরকে আরো ভাল কিছু উপহার পাব বলে আমরা আশাবাদী। “
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের প্ল্যাটফর্মটি হলো Qawmian Islamic Cyber Force

