সম্পাদক
নিউজ ডেস্ক:
জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনসভা। এককক্ষ বিশিষ্ট এ আইনসভার সদস্য সংখ্যা ৩৫০; যার মধ্যে ৩০০ জন সংসদ সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন এবং অবশিষ্ট ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ । নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে এবং ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসন লাভ করে যেখানে ১১ জন জাতীয় সংসদ সদস্য অবাধে ভোটবিহীনভাবে জয় লাভ করে। নির্বাচনে মোট ভোট সংগৃহীত হয়েছিল ৫৪.৯%।
দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৯, বাংলাদেশে ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জয় লাভ করে; তারা জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন লাভ করে। মোট ভোট সংগৃহীত হয়েছিল ৫১.৩%।
এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩৯ আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হয়। মিজান আওয়ামী লীগ (মিজান) ২, জাসদ ৮, মুসলিম লীগ ও ডেমোক্রেটিক লীগ ২০, ন্যাপ (মোজাফ্ফর) ১, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ ২, বাংলাদেশ গণফ্রন্ট ২, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল ১, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন ১, জাতীয় একতা পার্টি ১ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টি আসনে জিতেন। সংসদ ২ বছর ১১ মাস স্থায়ী হয়।
তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৭ই মে ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট ১,৫২৭ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসন নিয়ে জয় লাভ করে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ৭৬ আসনে জয়ী হয়ে প্রধান বিরোধী দল হয়।
নির্বাচনে মোট ভোটারের ৬১.১% ভোট সংগৃহীত হয়েছিল। তৎকালীন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সদ্য সাবেক ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এই নির্বাচনটি বর্জন করেছিল।
ক্ষমতাসীন দল জাতীয় পার্টির অধীনে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৮৮ বাংলাদেশে ৩রা মার্চ ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনটি বাংলাদেশের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সহ অধিকাংশ প্রধান দলই বর্জন করেছিল। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি পুনরায় জয় লাভ করে, তারা ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৫১টি আসন লাভ করে। সম্মিলিত বিরোধী দল এই নির্বাচনে ১৯ টি আসন পায়। মোট ভোটারদের মধ্যে ৫২.৫% ভোট গৃহীত হয়েছিল।
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এরশাদ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশে এ নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা উপহার পায়।তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এটি ছিল প্রথম নির্বাচন।
নির্বাচনে ৩০০টি আসনের বিপরীতে ৪২৪ জন সতন্ত্র প্রার্থীসহ ৭৫ টি দল থেকে মোট ২৭৮৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি জয় লাভ করে। তারা ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৪২টি আসন লাভ করে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ৮৮ আসনে জয়ী হয়ে প্রধান বিরোধী দল হয়। মোট ভোট গৃহীত হয়েছিল ৫৫.৪%।
ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯৬, ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়। অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দল নির্বাচনটি বর্জন করেছিল। মোট ভোট গৃহীত হয়েছিল মাত্র ২১%।
বিএনপি নির্বাচনে জয় লাভ করে এবং ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৭৮ টি আসন লাভ করে।রাজনৈতিক মহলে নির্বাচনটি ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নামে পরিচিত। সংসদের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনী খন্দকার আবদুর রশিদ ও চীফ হুইপ ছিলেন খন্দকার দেলোয়ার হোসেন।
৩০ মার্চ ১৯৯৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। সংসদ স্থায়ী ছিল মাত্র ১২ দিন। বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট সংসদ ছিল এটি।
বিএনপির পদত্যাগের পর ১৯৯৬ সালের ১২ জুন বাংলাদেশে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩০০টি আসনের বিপরীতে ২৮১জন সতন্ত্র প্রার্থীসহ ৮১টি দল থেকে মোট ২৫৭৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়। ৩০০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে।এ নির্বাচনে বিএনপি ১১৬ টি আসন লাভ করে।
তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের বিপরীতে ৪৮৪জন সতন্ত্র প্রার্থীসহ ৫৪টি দল থেকে মোট ১৯৩৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়। এটি হলো ১৯৯৬ সালে চালু হওয়া তত্বাবধায়ক সরকারের দ্বিতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩ আসনে জয় লাভ করে। আওয়ামী লীগ ৬২টি আসনে জয়লাভ করে।
বাংলাদেশে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২৯শে ডিসেম্বর ২০০৮ সালে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদ-এর নেতৃত্বাধীন সামরিক সরকারের অধীনে। সামরিক সরকার ২০০৭ সালের শুরুর দিকে জরুরী অবস্থা জারি করে যা ২০০৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর তুলে নেওয়া হয়। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এবং এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০ টি আসনে বিজয় লাভ করে।বিএনপি ৩০ টি আসনে জয় লাভ করে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৫ ই জানুয়ারি ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনটি নবম জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অধিকাংশ দলই বর্জন করে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও সতন্ত্রসহ ১৭টি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৩৪টি আসনে জয়লাভ করে। প্রধান বিরোধী জোট নির্বাচন বর্জন করায় এই নির্বাচনটি বেশ বিতর্কিত ছিল।
৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনের সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ ১২৭টি আসনে ,জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ২০টি, জেএসডি ৩টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ২টি এবং জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) একটিতে জয়লাভ করে।
বাকি ১৪৭টি আসনের মধ্যে ১৩৯টি আসনের (যেগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল) ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যার মধ্যে আওয়ামী লীগ ১০৫টি, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ১৩টি, ওয়ার্কার্স পার্টি চারটি, জেএসডি দুটি এবং তরিকত ফেডারেশন ও বিএনএফ একটি করে আসনে জয়লাভ করে। বাকি ৮টি নির্বাচনী এলাকার নির্বাচন সহিংসতার কারণে স্থগিত করা হয় এবং পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩৪ টি আসন নিয়ে জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হয়।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ সালের ৩০ শে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫৭ টি আসন লাভ করে বিজয় অর্জন করে।
নির্বাচনে বাংলাদেশের বড় দুটি দল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জোটসহ বাংলাদেশের নিবন্ধিত সর্বমোট ৩৯টি দল অংশগ্রহণ করে। ১,৮৪৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন যার মধ্যে ১২৮ জন স্বতন্ত্র। নির্বাচনে বিএনপি ৭ টি আসন লাভ করে।
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ২০২০ সালের ১১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের তৈরি প্রতিবেদনে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে মন্তব্য করা হয়।আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ প্রতিবেদনকে একপেশে ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।

