সম্পাদক

নিউজ ডেস্ক:

গত ১৭ ডিসেম্বর আব্দুল মান্নান মেহেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অলোক কুমার দাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সময় মেহেরপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক প্রতীক) ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রফেসর আব্দুল মান্নান হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, ‘মনে রাখতে হবে আমি শেখ হাসিনার প্রার্থী, আমি ভারতের প্রার্থী।’ তাদের এক মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের কথোপকথনের কল রেকর্ড ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে আব্দুল মান্নান ডা. অলোক কুমারকে বলেন, ‘তোমাকে মন্ত্রী প্রমোশন করেনি। বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট তোমার প্রমোশন করি দিইছে। মন্ত্রীকে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে যদি আর একটা কথা শুনি, তাহলে আমি এমপি হই আর না হই, তোমার মেহেরপুরের বাস আমি উঠিয়ে দেব। আর তুমি যদি সাবধান হয়ে যাও, তাহলে আমার প্রিয়পাত্র হয়ে থাকবে। এইটুকু তোমাকে আমি বললাম। তুমি পারলে তোমার মন্ত্রীকে বলো। পারলে তোমার শেখ হাসিনাকে বলো। আমি শেখ হাসিনার প্রার্থী। এটা তোমাকে মনে রাখতে হবে। আমি ভারতের প্রার্থী। এটা তোমাকে মনে রাখতে হবে। আমি এখানে হারার জন্য আসিনি। সাবধান হয়ে যাও তুমি।’`

ডা. অলোক কুমার দাস বলেন, ‘আমি কোনো ঝামেলায় পড়তে চাইনি। বিষয়টি সাধারণ ঘটনা বলে মনে করি। আমার ফোনে অটো কল রেকর্ডিং হয়। আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ। শান্তিতে থাকতে চাই। এ কারণে কাউকে অভিযোগ জানাইনি। আমি শুধু আওয়ামী লীগের প্রার্থী জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে বিষয়টি জানিয়েছি। কারণ তিনি (ফরহাদ) আমার অভিভাবক।’

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে অলোক কুমার দাশ সারাদিন প্রতিমন্ত্রীর বাসায় বসে থাকেন। তিনি নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে এবং নিজের চেম্বার প্রাকটিসকালে রোগীদের নৌকায় ভোট দান করতে বলে বেড়াচ্ছেন। বলছেন নৌকায় ভোট না দিলে চিকিৎসা দেবেন না। গ্রামের মানুষজন,  ভোটাররা অসংখ্যবার ডা. অলোকের এই কাণ্ড আমাকে জানায়। এ কারণে অলোককে বোঝানোর জন্য আমি ফোন দিয়েছিলাম। এটি উভয়ের পারসোনাল প্রোপার্টি ছিল। কিন্তু এটি সামাজিক মাধ্যমে বিকৃত আকারে ছড়ানো হয়েছে। প্রতিপক্ষ প্রার্থী আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ কাজ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘মূলত বলেছি আমি ভারতের প্রার্থী না। অথচ ‘না’ শব্দটি কেটে ফেলা হয়েছে। এখন এই ইস্যুটি পুঁজি করে প্রতিপক্ষ প্রার্থী জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আমাকে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে প্রকাশ্য নির্বাচনী সভায় বক্তব্যে দিয়ে বেড়াচ্ছেন।’

এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মেহেরপুর-১ আসনের নৌকা প্রার্থী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘প্রফেসর আব্দুল মান্নান যেটি করেছেন তা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন। উনি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হয়ে এমন কথা বলতে পারেন না। আর উনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের প্রার্থী দাবি করে যে কথা বলেছেন সেটা মিথ্যাচার ছাড়া কিছুই না। আমি বিষয়টি নিয়ে রির্টানিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক জেলা রির্টানিং অফিসার শামিম হাসান জানান, ‘তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জেনে তা নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির প্রধান যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ কবির হোসেনকে জানিয়েছি। তারা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’