ওমর ফারুক

বিজয় কর রতন মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:-

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর পাড়া-মহল্লায় বিরাজ করছে উৎসবমুখব পরিবেশ।চলছে বিরামহীন প্রচারণা। ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট ও দোয়া চাইতে দেখা গেছে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের।

ভোটারদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা।জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১৩ দিন। তাই প্রচার-প্রচাণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হোক- এ প্রত্যাশা ভোটারদের।

প্রচারণা চালানো প্রার্থীরা বলছেন, আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের দিন ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং ভোট দেবেন। সবাইকে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বানও জানান তারা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, নির্বাচনে যদি কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কিশোরগঞ্জ -১ সদর-হোসেনপুর আসনে জমে উঠেছে ভাইবোনের লড়াই।এ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি ডা:সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি।

এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন তারই আপন ভাই মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ সাফায়াতুল ইসলাম।দুই ভাইবোনের মধ্যে লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।বিরামহীন প্রচারণায় সময় কাটাচ্ছেন তারা।বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন,দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

এ ছাড়াও এ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ডা:আব্দুল হাই।তার গরীবের ডা: হিসেবে বেশ খ্যাতি রয়েছে।কিশোরগঞ্জ -২ (কটিয়াদি-পাকুন্দিয়া) আসনে ত্রিমুখী লড়াই হবে এবার।এ আসনের বর্তমান এমপি সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদকে হটিয়ে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত ডি আইজি, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দ।

তবে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন সাবেক এমপি পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক এড.সোহরাব উদ্দিন ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাবেক এমপি মেজর (অব:) আক্তারুজ্জামান রঞ্জন।

ইতিমধ্যেই বর্তমান এমপি সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাবেক এমপি আক্তারুজ্জামান রঞ্জনকে সমর্থন দিয়েছেন।তাই এ আসনে ত্রিমুখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

প্রার্থীরাও নিয়মিত গণসংযোগ করছেন দি”প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। কিশোরগঞ্জ-৩(করিমগঞ্জ -তাড়াইল) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েও দলের সিদ্ধান্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন সদ্য পদত্যাগ করা করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ।

এ আসনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। আসনটিকে তাকে ছেড়ে দিতেই আওয়ামীলীগ প্রার্থীর প্রার্থীতা প্রত্যাহার করানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়াও এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার গোলাম কবির ভূইয়া,প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এডিসি মেজর (অব:) নাসিমুল হক ও নিউইয়র্ক আওয়ামীলীগ নেতা মাহফুজুল হক হায়দার। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বসে নেই।

তারা প্রতিনিয়ত জনগণের কাছে যাচ্ছেন। ভোট ও দোয়া চাইছেন। সেই সাথে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি । কিশোরগঞ্জ -৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে অনেকটাই নির্ভর সাবেক রাষ্ট্রপতি পূত্র তিনবারের এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক। কারণ এ আসনে তার কোন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নেই।

তাই তার বিজয় অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছে নেতাকর্মীরা। তবুও এমপি তৌফিক বসে থাকতে রাজি নয়।সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

ভোট প্রার্থনা করছেন। আধুনিক হাওরকে স্মার্ট হাওরে রুপান্তরের নানা প্রতিশ্রæতি দিচ্ছেন। কিশোরগঞ্জ -৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে এবারো নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি আফজাল হোসেন।তবে তার মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল সি আই পি।

সুব্রত পাল গত এক বছরে নিকলী বাজিতপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে গিয়ে সরকারের উন্নয়নমূলক ব্যাপক প্রচারণা করেছেন। তা ছাড়া আওয়ামীলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী তার সাথে রয়েছে। কর্মী সমর্থকদের মতে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে সুব্রত পাল।

তাই বর্তমান এমপি আফজাল এবার পাশ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তবে বসে নেই কেউই।নৌকার প্রার্থী এমপি আফজাল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সুব্রত পাল দুইজনই বিরামহীন ছুটে চলেছেন। নিয়মিত গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা করছেন।দিচ্ছেন নানা প্রতিতি।

কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে অনেকটাই নির্ভর বর্তমান এমপি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। কারণ এ আসনে তার কোন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নেই। তাই তার বিজয় অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছে নেতাকর্মীরা।

তবুও তিনি নিয়মিত দলীয় নেতাকর্মী সমর্থকদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন ও ভোট প্রার্থনা করছেন।