ওমর ফারুক

বিজয় কর রতন, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার হাওর অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন তিন বারের এমপি প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক।

এ আসনে হেভিওয়েট কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী তৌফিক। একদমই নির্ভার তিনি। প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

পথসভা, উঠান বৈঠকও চলছে। দীর্ঘদিন ধরেই কিশোরগঞ্জ-৪ আসন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো:আবদুল হামিদ এখান থেকে সাতবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হবার পর তাঁর জেষ্ঠ্য ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক তিনবার জাতীয় সংসদে গেছেন এখানে জয়ী হয়ে।এবার চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে লড়ছেন তৌফিক।

জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে মজবুত ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থায় আছে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে। একক ও ঐক্যের প্রার্থী প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক সাংগঠনিক যোগ্যতা ও নেতৃত্বের দক্ষতায় পুরো দলকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলের সর্বত্র শক্তিশালী জনসমর্থন গড়ে তুলেছেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকেই সাতবার নির্বাচিত হয়েছিলেন।এ সময় তিনি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণসহ সার্বিক উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছেন।

তার একান্ত ইচ্ছাতেই পুরো হাওড় এলাকার চিত্র এখন পাল্টে গেছে।মিঠামইনে সেনানিবাস নির্মাণ ও তিন উপজেলা নিয়ে অলওয়েদার সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান বদলে গেছে।

দীর্ঘকালের অবহেলিত এ ভাটি অঞ্চলের অভূতপূর্ণ উন্নয়ন হবে-এমনটা হয়ত কেউ ভাবেনি কখনো। সবাইকে তাক লাগিয়ে এই উন্নয়ন কর্মকান্ড-নিজ চোখে দেখতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ অঞ্চলের কৃতী সন্তান সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে হাওরে ছুটে এসেছিলেন।

বিগত ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাতটিতেই সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জয়লাভ করে সংসদে গেছেন। রাজনৈতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় হয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা,ডেপুটি স্পিকার, স্পিকার ও রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হলে তাঁর নিজের আসনটি শূন্য হয়। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে তাঁরই বড় ছেলে প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক সংসদ সদস্য হন। পরেরবার ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সৈয়দ অসীমকে পরাজিত করে তিনি আবার সংসদ সদস্য হন এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

টানা তিন মেয়াদে এমপি হয়ে তিনিও বাবার মতো স্বভাব-সুলভ আচরণে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করাসহ এলাকার দৃশ্যমান সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, এমপি তৌফিক দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও এলাকার জনসাধারণের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ রয়েছে। ফলে এলাকায় ইতোমধ্যে তার একটি ইতিবাচক ইমেজ গড়ে উঠেছে।

তার পিতা সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি এ আসনের সাত বারের এমপি। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রকৌশলী তৌফিক একাধিকবার নির্বাচিত হয়ে উন্নয়ন ও সংগঠন গড়ার মাধ্যমে এলাকার প্রতিটি বাড়ি-মহল্লা চষে বেড়িয়েছেন।

নিজের হাতে তিনি নতুন প্রজন্মকে আওয়ামী রাজনীতিতে সংযুক্ত করে পিতার রক্ত ও রাজনীতির যোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে মানুষের সঙ্গে মিশে আছেন। সততা, পরিশ্রম ও নীতিই হলো- প্রকৌশলী তৌফিকের প্রধান শক্তি।

এলাকার প্রতিটি উন্নয়ন কাজে নিজে তদারকি করে তিনি অন্যায়, অপচয় ও দুর্নীতি প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন। বিনয়, ভদ্রতা ও সৌজন্যের মাধ্যমে তিনি সর্বস্তরের মানুষকে আপন করে নিয়েছেন। বাংলাদেশের আর কোনো সংসদ সদস্য এতো বেশি দিন ও সময় এলাকায় না। বিপদে-আপদে মানুষ তাকে সব সময়ই হাতের কাছে পায়।

সাধারণ মানুষের মতো আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করেন, এলাকার জন্য কঠোর পরিশ্রমের ফল প্রকৌশলী তৌফিক পেয়েছেন।তিনি শক্তিশালী সংগঠন ও দৃঢ় জনভিত্তির মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একজন বিশ্বস্ত, জনপ্রিয় ও অবিচল রাজনৈতিক যোদ্ধা।

‘অবহেলিত হাওরাঞ্চলে যুগান্তকারী উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধনের মাধ্যমে প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মেদ তৌফিক দল ও জনমনে আশার মশাল হয়ে জ্বলজ্বল করছেন। বৃহত্তর হাওরকে শিক্ষা, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের পথে চালিত করে আগামীর সমৃদ্ধ ভবিষ্যতে দিকে নিয়ে যাওয়ার কান্ডারী তিনি। হাওর ও হাওরবাসীর ভাগ্যোন্নয়নের জন্য তার যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করে দলীয় নেতাকর্মীরা।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯৭৯ জন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৭৭ হাজার ২০১ জন। সে হিসেবে এ আসনে গত পাঁচ বছরে ভোটার বেড়েছে ৪২ হাজার ৭৭৮ জন।

এ আসনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকের বিপরীতে লড়ছেন আ. মজিদ (স্বতন্ত্র), মোহাম্মদ আবু ওয়াহাব (জাতীয় পার্টি), মো. জয়নাল আবদিন (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি), মো. শরীফুল আহসান (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ) ও মো. নসিম খাঁন (ইসলামী ফ্রন্ট)।

তবে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ব্যাতিত বাকি অন্য প্রার্থীর কাউকেই ভোটের প্রচারে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। তাদের হয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে।

আওয়ামীলীগ প্রার্থী প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ-৪ আসন নৌকার ঘাঁটি।’আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সব নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে দিনরাত মাঠ চষে বেড়াচ্ছি।বিগত সময় গুলিতে আমরা এলাকাবাসীর পাশে ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকবো’।


আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে হাওরবাসী নৌকায় ভোট দিয়ে তাঁকে আবারো বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।