ওমর ফারুক

আবদুর রউফ আশরাফ

তাবলিগ অর্থ প্রচার করা। ইসলামের দাওয়াত দেওয়া। সৎ কর্মের প্রতি আহ্বান করা প্রভৃতি। একজনের অর্জিত জ্ঞান বা শিক্ষা নিজ বা সম্মিলিত ইচ্ছা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নামই তাবলিগ।

কোনো আদর্শ বা বিশেষ মতবাদের প্রচারকাজকে তাবলিগ বলা হয়। সাধারণত ধর্মীয় মতবাদ প্রচারই তাবলিগ। পৃথিবীর বুকে ইসলামের অভ্যুদয়, ক্রমবিকাশের অগ্রযাত্রা ও প্রচার-প্রসারের অন্যতম প্রধান উপকরণ হলো দাওয়াত ও তাবলিগ।

ইসলামের আবির্ভাবের মুহূর্ত থেকে অদ্যাবধি নিরলস, নিরবচ্ছিন্ন গতিতে প্রবাহিত হচ্ছে তাবলিগের কার্যক্রম। প্রকৃতপক্ষে দাওয়াত ও তাবলিগ হচ্ছে ইসলাম প্রচারের একটি মৌলিক কর্মসূচি।

অন্যান্য ধর্মীয় সমাবেশ, জমায়েত থেকে বিশ্ব ইজতেমা সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে এক পরিচ্ছন্ন নীতিকে অনুসরণ করে ওয়াজ-নসিহত ও ইসলামি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, ‘বয়ান’। পবিত্র কোরআন, হাদিস ও শরিয়তের বিভিন্ন বিষয় সবিস্তারে বয়ান করা হয়।

মহানবী (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ এবং তাঁর সাহাবায়ে কিরামদের কর্মময় জীবনের নানা কথা বয়ান করা হয়। ইসলামের মৌল বিষয় যথাক্রমে কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত এবং ইমানের নানা দিকদর্শনে বয়ান করা হয়।

বয়ানে চমৎকার সাবলীল উপস্থাপনায় সাধারণ মানুষের শেখা, বোঝা ও অনুধাবন করতে পারে এমনভাবে ইসলামের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রশিক্ষিত করে তাদের মন-দিল বা আত্মাকে পরিশোধিত করে খাঁটি ও শুদ্ধভাবে সর্বশক্তিমান আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনে নিজেদের উৎসর্গিত করে তোলে।

দেশি-বিদেশি ইসলামি চিন্তাবিদ, ওলামায়ে কিরামগণ ইমান, আকিদা, দীনের দাওয়াত, ইসলাম ধর্মকর্ম, দুনিয়া ও আখিরাত সম্পর্কে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক মূল্যবান বয়ান করেন। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ইজতেমার বয়ান। কে বয়ান করবেন, তাঁর নাম-পরিচয় ঘোষণা করা হয় না। 

ঘোষণা করা হয় না। হাততালি তো দূরের কথা, টুঁ শব্দটি পর্যন্ত শোনা যায় না। কাউকে কটাক্ষ বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বা খোঁচা দিয়ে কথা বলা চিন্তাই করা যায় না। কাউকে উদ্দেশ করে, কাউকে প্রশংসা করে অথবা কারও সমালোচনা করে এখানে কেউ বয়ান করেন না।

বিশ্ব ইজতেমা বা সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, মুসলমানদের সব ভ্রান্তপথ পরিহারের তাগিদ করে আল্লাহর রাস্তায় ফিরিয়ে এনে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে সহজ-সরল জীবনযাপন এবং আদর্শ সমাজ গঠনের জন্য কল্যাণের পথচলায় ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করা।

বয়ানে উদ্ধুদ্ধ হয়ে অনেক ভাইয়েরা আল্লাহর পথে বের হন। দ্বীন শিখে। কালেমা,কালাম অযু গোসল শিখে পাক্কা তাবলিগের অনুকরণে আল্লাহর পথে ফিরে আসে। অতীত জীবনের সকল ভ্রন্ত পথে ভুলে সু-পথে প্রবেশ করার সোপান হয়ে থাকে বিশ্ব ইজতেমা।

তাবলিগ জামাতের এ ইজতেমা থেকে পথভুলা অনেক বান্দা পেয়ে থাকে সু-পথের দিশা। আল্লাহ ও রাসূল (সা.) রঙ্গে জীবন পরিচালিত করেন।